চা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু যে চা বাগান থেকে এই পণ্য আসে, সেখানে কাজ করা অধিকাংশ শ্রমিকই নারী। অথচ তাদের অনেকেই জানেন না আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্য বা অধিকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো।
প্রতিবছর ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় International Women’s Day। এই দিনটি নারীদের অধিকার, মর্যাদা ও সমতার দাবিকে সামনে আনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন চা বাগানে কর্মরত নারী শ্রমিকদের অনেকের কাছেই দিনটির বিশেষ কোনো তাৎপর্য নেই।
চা বাগানে কর্মরত নারীরা জানান, প্রতিদিনের মতোই তাদের দিন শুরু হয় ভোরে। সারাদিন বাগানে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করাই তাদের প্রধান চিন্তা। নারী দিবস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা বা উদযাপনের সুযোগ তাদের জীবনে খুব একটা আসে না।
কমলগঞ্জের আলীনগর, কানিহাটি ও মাধবপুর চা বাগানের নারী শ্রমিকরা কালের কণ্ঠকে জানান, ২৫ থেকে ৩০ কেজি চা পাতা তুলে তারা একেকজন মজুরি পান ১৭৮ টাকা। বাড়তি চা পাতা তুললে যে পরিমাণ টাকা পাওয়ার কথা, তা-ও পান না বেশিরভাগ সময়। কর্মস্থলে নেই তাদের জন্য শৌচাগার। তাঁরা জানান, নারী দিবসে তাদের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়।
তাঁরা ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানুষের মতো বেঁচে থাকার অধিকার চান।
নারী শ্রমিকরা জানান, তাঁদের কাছে জীবনধারা মানে সপ্তাহে সোমবার থেকে শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজ করা। কেউ সকালে খেয়ে বের হন। সময় না থাকলে বাটিতে খাবার নিয়েই ছুটতে হয়। দুপুরে খাবার বলতে পাতিচখা বা পাতি চাটনি; যা তৈরি হয় চাল ভাজা, চায়ের কুঁড়ি পাতা, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ ইত্যাদি দিয়ে।
তারপর ঘরে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা।
কমলগঞ্জের শমশেরনগর দেওছড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক গীতা রবিদাস বলেন, প্রতিবছর নারী দিবসের কথা শুনি। এই দিবসে কী হয় আমরা জানি না। এই দিনে তো আমাদের ছুটিও নেই। কোনো সাহায্য-সহায়তাও পাই না। অনেক দিবস এলেও আমাদের জীবনের বঞ্চনা ও কঠোর পরিশ্রমের গল্প তো আর শেষ হয় না।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপদেষ্টা রামভজন কৈরী বলেন, চা বাগানে অর্ধেক নারী শ্রমিক হলেও নারী হিসেবে কর্মস্থলে যে সুযোগ-সুবিধা থাকার দরকার, তা তারা পাচ্ছেন না। কর্মক্ষেত্রে শৌচাগার নেই, কিন্তু চুক্তিতে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারী চা শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে কেয়ার নেই।

