রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

‘আমরা জিতে গেছি, তোমাদের দরকার নেই’—ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে ট্রাম্প

রবিবার, মার্চ ৮, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ওয়াশিংটন যখন ইরানে যুদ্ধে প্রায় জিতে গেছে, তখন লন্ডনের সামরিক সহায়তার আর কোনো প্রয়োজন নেই।

শনিবার (৭ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বিদ্রূপ করে বলেন, এক সময়ের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য এখন মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছে, কিন্তু যুদ্ধের এই পর্যায়ে তাদের এই সহায়তার দরকার নেই। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যারা জোটে যোগ দিতে চায়, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার কোনো কারণ নেই।

এই বাদানুবাদের সূত্রপাত হয় যখন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য তাদের একটি বিমানবাহী রণতরীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। এছাড়া ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার ‘এইচএমএস ড্রাগন’ সাইপ্রাসের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় রয়েছে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের যৌথ হামলার সময় সরাসরি অংশ না নেওয়ায় স্টারমারকে ‘উইনস্টন চার্চিল নন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে দেরি করায় ট্রাম্প স্টারমারের ওপর চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে তার অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রিটেন সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও ওই অঞ্চলে আত্মরক্ষামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। জর্ডান, সাইপ্রাস ও কাতারের ওপর দিয়ে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলো টহল দিচ্ছে এবং নজরদারির জন্য হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।

তবে স্টারমার জোর দিয়ে বলেছেন, ইরাক যুদ্ধের ভুল থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছেন এবং আকাশ থেকে সরকার পরিবর্তনের তত্ত্বে তিনি বিশ্বাসী নন।

স্টারমার আরও উল্লেখ করেন, মার্কিন অনুরোধে কিছু ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও তাদের মূল লক্ষ্য হলো আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরিয়ে আনা। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই সতর্ক অবস্থানকে ট্রাম্পের মিত্ররা ভালো চোখে দেখছেন না। এমনকি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসও ট্রাম্পের মন্তব্যকে সমর্থন করে একে ‘যৌক্তিক ও দণ্ডনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

সব মিলিয়ে ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দুই মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এখন তুঙ্গে।