বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

‘ইরানকে আবার মহান করুন’ লেখা টুপি দিয়ে কী ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

মঙ্গলবার, জানুয়ারী ৬, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে কারাকাসের সেফ হোম থেকে তুলে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ছবি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছবিতে তাকে ‘মেক ইরান গ্রেট অ্যাগেইন’ (ইরানকে আবার মহান করুন) লেখা এবং তাতে তারই সই করা একটি টুপি হাতে দেখা যাচ্ছে। এই টুপি ইরানের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও উগ্রপন্থি পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম সোমবার এক্সে (সাবেক টুইটার) ছবিটি পোস্ট করেন। এতে তিনি লিখেছেন, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের কাছে আরও শক্তিশালী করেছেন।

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি মার্কিন হিসেবে গর্বিত। ইরানের সেই সাহসী মানুষদের সৃষ্টিকর্তা রক্ষা করুন, যারা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।’

ট্রাম্পের বিখ্যাত স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ (আমেরিকাকে আবার মহান করুন) স্লোগানকে পরিবর্তন করে এই টুপি বানানো হয়েছে। টুপিতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের ইরানের পতাকার ছবি রয়েছে, যা সরাসরি ইরানে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

গত রোববার রাতে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ছবিটি তোলা হয়।

রিপাবলিকানপন্থি হিসেবে পরিচিত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই টুপি মাথায় পরে গ্রাহাম বলেন, ‘আমি প্রার্থনা করি, ২০২৬ সাল যেন সেই বছর হয়, যখন আমরা ইরানকে আবারও মহান করতে পারব।’

গত রোববার ট্রাম্প ইরান সরকারকে হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা যদি আগের মতো মানুষকে হত্যা করা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা ‘খুব কঠিন আঘাত’ পাবে।

গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল। জবাবে ইরান দোহার একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও গত সপ্তাহে ট্রাম্প আবারও হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার পুনর্গঠন করার চেষ্টা করে, তবে তিনি তাদের ‘ধুলায় মিশিয়ে দেবেন’।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিতর্কিত অভিযানের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে ইরান।