টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর ইরানে সীমিত আকারে মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) থেকে দেশটির সাধারণ ব্যবহারকারীরা একে অপরের সঙ্গে এসএমএস আদান-প্রদান করতে পারছেন। তবে মোবাইল নেটওয়ার্ক এখনো ফোনকল করার মতো শক্তিশালী পর্যায়ে ফেরেনি এবং বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবাও এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে চলা নজিরবিহীন সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে দেশটিকে ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটের মাধ্যমে স্থবির করে রাখা হয়েছিল।
ইরানের বর্তমান এই অস্থিরতার মূলে রয়েছে দেশটির চরমভাবে ভেঙে পড়া অর্থনীতি। বছরের পর বছর ধরে মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে ইরানি রিয়াল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য প্রায় ১০ লাখ রিয়ালের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
মুদ্রার এই ঐতিহাসিক পতনের ফলে ইরানে খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এই অসহনীয় মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দিলে সেখান থেকেই বর্তমান বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়।
ব্যবসায়ীদের সেই ধর্মঘট দ্রুতই রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয় এবং ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গত ৪৭ বছরে বর্তমান সরকারের জন্য একে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৭ জানুয়ারি থেকে সরকার ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয় এবং বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করে। বিভিন্ন অসমর্থিত সূত্রের দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

