নেপালে জেন জি প্রজন্মের নেতৃত্বে বিক্ষোভ ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পর এবার তার অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু প্রসাদ পৌডেলকে (৬৫) রাস্তায় ধাওয়া করে মারধর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর রাস্তায় অসংখ্য বিক্ষোভকারীর হাত থেকে বাঁচতে দৌড়াচ্ছেন মন্ত্রী। হঠাৎ এক তরুণ দিক পরিবর্তন করে লাফিয়ে উঠে তাকে লাথি মারলে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে লাল দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে পড়েন। তবে মুহূর্তের মধ্যে তিনি উঠে দাঁড়িয়ে আবার দৌড়াতে শুরু করেন। এরপর ভিডিওটি কেটে যায়।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে এনডিটিভি।
কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র শেখর খানাল এএফপিকে জানান, মঙ্গলবার কারফিউ অমান্য করে বহু বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসে। ‘বিভিন্ন এলাকায় আগুন দেওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে,’ বলেন তিনি।
প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। সোমবার সরকারের দমন-পীড়নে অন্তত ১৯ জন নিহত হওয়ার পর তা আরও তীব্র হয়। যদিও মঙ্গলবার সরকার ফেসবুক, ইউটিউব, এক্সসহ নিষিদ্ধ করা প্ল্যাটফর্মগুলো পুনরায় চালু করেছে, বিক্ষোভ তখনও থামেনি।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী অলি যিনি গত বছর চতুর্থ দফায় ক্ষমতায় ফিরেছিলেন, অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর আগে তার মন্ত্রিসভার আরও তিনজন সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন।
অলির নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টি গত বছর নেপালি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে সরকার গঠন করেছিল। তবে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে তরুণ প্রজন্ম ক্ষোভে ফেটে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্ষোভকে উসকে দিয়েছে আরেকটি বিষয়। গত শুক্রবার সরকার ২৬টি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিলেও টিকটক খোলা ছিল। সেখানে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে সাধারণ নেপালিদের দারিদ্র্যের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের সন্তানদের বিলাসবহুল জীবনযাপনের তীব্র বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নেপালের তরুণ প্রজন্ম কেবল সোশ্যাল মিডিয়া অবরোধের প্রতিবাদেই নয়, বরং দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, বৈষম্য ও রাজনৈতিক অচলাবস্থার বিরুদ্ধে এবার সরব হয়ে উঠেছে।

