মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

গাজায় অপুষ্টির শিকার ৯৫ হাজার শিশু: জাতিসংঘ

মঙ্গলবার, জানুয়ারী ১৩, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার শিশুদের পুষ্টিহীনতা ‘আশঙ্কাজনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। ২০২৫ সালে উপত্যকাটির প্রায় ৯৫ হাজার শিশু পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত হয়েছে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রচণ্ড শীত ও প্রতিকূল আবহাওয়া চলমান মানবিক সহায়তার নড়বড়ে অগ্রগতিকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে।

মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) বরাত দিয়ে সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, ‘গাজা উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। বৈরি আবহাওয়া ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অর্জিত অগ্রগতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।’

ডুজারিক জানান, পুষ্টি সহায়তায় নিয়োজিত সংস্থাগুলো এখনও বিপুল সংখ্যক শিশুকে জরুরি সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করছে।

তিনি বলেন, ‘পুষ্টিহীনতা মোকাবিলায় নিয়োজিত আমাদের সহযোগীরা জানিয়েছেন, গত মাসে তারা ৭৬ হাজারের বেশি শিশুর পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৪,৯০০ শিশুর শরীরে তীব্র পুষ্টিহীনতা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৮২০টি কেসই ছিল অতি-তীব্র পুষ্টিহীনতার।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ নিয়ে ২০২৫ সালে শনাক্ত হওয়া তীব্র পুষ্টিহীনতায় আক্রান্ত শিশুর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫ হাজারে।

জাতিসংঘের সহযোগীরা ইতোমধ্যে ২৮ হাজার পরিবারকে তাঁবু, ত্রিপল এবং কম্বল সরবরাহ করেছে উল্লেখ করে ডুজারিক সতর্ক করেন, এখনো প্রায় ১১ লাখ মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। কারণ অব্যাহত বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সহযোগীরা জোর দিয়ে বলছেন, তাঁবু কেবল একটি সাময়িক সমাধান। জরুরি অবস্থা থেকে উত্তরণ এবং প্রাথমিক পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করতে হলে আমাদের আরও সরঞ্জাম, সিমেন্ট, ধ্বংসস্তূপ সরানোর ভারী যন্ত্রপাতি এবং নিরবচ্ছিন্ন অর্থায়ন প্রয়োজন।’