চীনের সামরিক বাহিনী ও প্রশাসনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশটির সর্বোচ্চ আইনসভা ‘ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস’ (এনপিসি) থেকে পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ৬ জন শীর্ষ জেনারেলসহ মোট ১৩ জন সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া একজন সদস্য নিজে থেকেই পদত্যাগ করেছেন। গত শুক্রবার রাতে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনসভা থেকে অপসারিত ৬ সেনা কর্মকর্তার মধ্যে বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল কমান্ডার রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুর্নীতির তদন্ত চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপসারিতদের মধ্যে অন্যতম হলেন সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের ইকুইপমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের জেনারেল সু সুয়েচিয়াং। গত অক্টোবর মাসে কমিউনিস্ট পার্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তার অনুপস্থিতি নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল।
এ ছাড়া ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াং কাংপিংও এই বহিস্কারের তালিকায় রয়েছেন। তবে কেবল সামরিক বাহিনীই নয়, চীনের বেসামরিক প্রশাসন ও রাজনীতিতেও এই শুদ্ধি অভিযানের ধাক্কা লেগেছে। আইনসভা থেকে বাদ পড়া অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন জিনজিয়াং প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক প্রধান এবং একজন শীর্ষ আর্থিক নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সামরিক বাহিনী এবং সরকারের ভেতর থেকে দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে এবং শতভাগ রাজনৈতিক আনুগত্য নিশ্চিত করতে বেশ কিছুদিন ধরেই এই ‘শুদ্ধি অভিযান’ চালাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক এই গণ-বহিস্কারের ঘটনা স্পষ্ট করে দেয় যে, বেইজিংয়ের এই কঠোর অবস্থান শিথিল হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, বরং তা আরও জোরদার হচ্ছে।

