ওয়াং ইউয়ান যখন সরকারের দেশব্যাপী শিশুদের ভর্তুকির ঘোষণা শোনেন তখন বাড়তি টাকা পাবেন মনে করে কিছুটা খুশি হয়েছিলেন, কিন্তু শিশুদের ডায়াপার, দুগ্ধ জাতীয় পণ্যের উচ্চ মূল্যের দাম স্মরণ হতেই তার সেই আনন্দ ফিকে হয়ে আসে।
চীনের ঝিজাং প্রদেশের হাংজু শহরে বসবাসরত এই মা বলেন, চলতি বছরের জুলাইয়ে সরকারের দেশব্যাপী নতুন শিশুদের ভর্তুকির ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১৪৩ ইউয়ানের ডায়াপার বেড়ে ১৫৮ ইউয়ান হয়ে যায়।
সবমিলিয়ে তার ৪ মাসের বাচ্চার জন্য ডায়াপার থেকে শুরু দুগ্ধজাত পণ্য ও জামা-কাপড়ের জন্য প্রতি মাসে ৪০০০ হাজার ইউয়ান ব্যয় করতে হয়। সে হিসেবে প্রতি শিশুর জন্য সরকারের ৩ হাজার ৬০০ ইউয়ান ভাতা মহাসমুদ্রে এক ফোটা জলের মতো।
ওয়াং বলেন- যেহেতু সব কিছুর দাম বেশি সেজন্য আমি এখন নতুন করে আরও সন্তান নিতে আগ্রহী না। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
উল্লেখ্য, জন্মহার বাড়াতে চলতি বছরের জুলাইয়ে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নেয় চীন সরকার। তিন বছরের কম বয়সী প্রতিটি শিশুর জন্য বার্ষিক ৩,৬০০ ইউয়ান (প্রায় ৫০০ মার্কিন ডলার বা ৪০ হাজার টাকা) নগদ ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।
এটি চীনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে এমন কোনো ভর্তুকি চালু করা হলো, যা প্রায় ২ কোটি পরিবারকে শিশু প্রতিপালনে আর্থিক সহায়তা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন এই স্কিম অনুযায়ী, প্রতিটি শিশুর জন্য পরিবারগুলো সর্বোচ্চ ১০,৮০০ ইউয়ান পর্যন্ত ভর্তুকি পাবে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, এই নীতি ২০২৪ সালের শুরু থেকে কার্যকর ধরা হবে, অর্থাৎ এটি পূর্ববর্তী সময়ের জন্যও প্রযোজ্য হবে। বিশেষ করে, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া শিশুরা আংশিক ভর্তুকির জন্য আবেদন করতে পারবে। এটি মূলত জন্মহার বাড়াতে স্থানীয় সরকারগুলোর বিভিন্ন উদ্যোগেরই একটি সম্প্রসারণ।
প্রায় এক দশক আগে বিতর্কিত ‘এক-সন্তান নীতি’ বাতিল করার পরও চীনে জন্মহার ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশটিকে ভয়াবহ জনসংখ্যাগত সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় চীনের বিভিন্ন প্রদেশে ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে নগদ সহায়তার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
যেমন, গত মার্চে চীনের উত্তরের শহর হোহোট তিনটি বা তার বেশি সন্তান থাকা দম্পতিদের প্রতিটি শিশুর জন্য ১ লাখ ইউয়ান পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। বেইজিংয়ের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত শেনইয়াং শহরে, তৃতীয় সন্তানের বয়স তিন বছরের কম হলে পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ৫০০ ইউয়ান করে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো চীনের জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০২৪ সালে দেশটিতে জন্ম হয়েছে মাত্র ৯৫ লাখ ৪০ হাজার শিশুর। যদিও এটি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি, তবে সামগ্রিকভাবে চীনের জনসংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
বর্তমানে চীনের জনসংখ্যা প্রায় ১.৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটির কাছাকাছি, তবে এই বিশাল জনসংখ্যা দ্রুত বার্ধক্যের দিকে এগোচ্ছে, যা বেইজিংয়ের জন্য আরও বড় জনসংখ্যাগত উদ্বেগ তৈরি করছে।

