মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

জ্বরে মুখের রুচি কমলে করণীয় কী

বুধবার, আগস্ট ২০, ২০২৫

প্রিন্ট করুন
জ্বরে

বর্তমানে মৌসুম পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, করোনা ও অন্যান্য ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এসব জ্বরে আক্রান্ত হলে কিংবা সেরে ওঠার সময় বেশিরভাগ মানুষেরই মুখে অরুচি দেখা দেয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। জিভে তিতা ভাব, খাবারে অনীহা কিংবা গন্ধ না পাওয়া—এসব উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ মনে হলেও শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য সঠিক খাবার খাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।

জ্বরে কেন খাবারের প্রতি অনীহা হয়?

জ্বরের সময় শরীরে বাড়তি এনার্জি প্রয়োজন হয়। শরীর সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে প্রচুর ক্যালরি খরচ করে। কিন্তু মুখে রুচি না থাকায় অনেকেই সঠিক পরিমাণে খাবার খেতে পারেন না। ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোগমুক্তি বিলম্বিত হয়। তাই জ্বরের সময় পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ অপরিহার্য।

খাবারের ধরন ও খাওয়ার নিয়ম

একবারে বেশি খাবার খাওয়ার বদলে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়া উত্তম। দিনে ২-৩ ঘণ্টা অন্তর হালকা খাবার খেলে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং হজমেও সুবিধা হয়। খাওয়ার আগে বা মাঝখানে বেশি পানি না খেয়ে খাওয়ার কিছুক্ষণ পর পানি পান করা উচিত।

মুখের রুচি বাড়াতে সহায়ক খাবার

স্যুপ: চিকেন স্যুপ, টমেটো স্যুপ বা লেমন করিয়্যান্ডার স্যুপ শুধু মুখের রুচিই বাড়ায় না, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। চিকেন স্যুপে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়ক।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল: লেবু, কমলা, মাল্টা, আনারস, আমলকী, টমেটো ও ক্যাপসিকাম মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। লেবু-টমেটোর চাটনি খাবারে বৈচিত্র্য আনে, আর পুদিনা পাতা চিবালে মুখের তিতা ভাব অনেকটা কমে যায়।

প্রাকৃতিক উপাদান ও ঘরোয়া সমাধান

আদা ও রসুন: খাওয়ার আগে এক টুকরো আদা চিবানো বা রান্নায় রসুন ব্যবহার করলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল গুণ পাওয়া যায়।

মধু ও গরম লবণ পানি: কাশি বা গলা ব্যথায় মধু ভালো কাজ করে। পাশাপাশি দিনে ২-৩ বার গরম লবণ পানিতে কুলকুচি করলে মুখের সতেজতা ফিরে আসে।

তরল ও পুষ্টিকর পানীয়

কচি ডাবের পানি: এতে থাকে প্রাকৃতিক গ্লুকোজ ও ইলেকট্রোলাইট, যা শরীর দ্রুত রিকভার করতে সহায়তা করে।

স্মুদি, মিল্কশেক ও দই: দুধ খেতে না চাইলে এগুলো বিকল্প হতে পারে। এগুলো মুখের রুচি বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে বাড়তি শক্তি দেয়।

আইসক্রিম: ঠান্ডা অনুভূতি দিয়ে সাময়িক আরাম দেয় এবং মুখে রুচি আনে।

ক্ষুধা বাড়াতে উপকারী খাবার ও সাপ্লিমেন্ট

  • জিংকযুক্ত খাবার: ডিম, দুধ, পনির, বাদাম, মাশরুম ও পালংশাক ক্ষুধা ও মুখের স্বাদ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর।
  • ভিটামিন বি-১ ও মাছের তেল সাপ্লিমেন্ট: এগুলো ক্ষুধা বাড়ায়। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

জ্বরের সময় তেলেভাজা, অতিরিক্ত ঝাল ও মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। পচনশীল বা বাসি খাবার থেকেও দূরে থাকতে হবে।

শেষকথা

জ্বর কিংবা ভাইরাসজনিত অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময় মুখে রুচি হারানো স্বাভাবিক। তবে একে অবহেলা করলে দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই যতই অরুচি থাকুক না কেন, ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সঠিক পুষ্টি গ্রহণ করলে শরীর দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।