শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

ট্রাম্প নীতিবিরোধী চিঠিতে সই : বাধ্যতামূলক ছুটিতে পরিবেশ সংস্থা’র ১৩৯ কর্মী!

রবিবার, জুলাই ৬, ২০২৫

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রোমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি’র (পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা- ইপিএ) ১৩৯ কর্মী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকারের এজেন্ডা নস্যাৎ করার চেষ্টাকারীদের ব্যাপারে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।
এই কর্মীরা সম্প্রতি ট্রাম্প এর নীতির বিরুদ্ধে একটি খোলা চিঠিতে সই করেছিলেন, যার শিরোনাম ছিল ‘ভিন্নমতের ঘোষণা’ (উবপষধৎধঃরড়হ ড়ভ উরংংবহঃ)।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ফেডারেল সরকার “ক্ষতিকর মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করছে”, “দূষণকারী শিল্পকারখানার স্বার্থে বৈজ্ঞানিক মতামত উপেক্ষা করছে” এবং ইপিএ-র ভেতরে “ভয়ের সংস্কৃতি” চালু করেছে।
চিঠিটি এমন সময় সামনে এল, যখন সংস্থাটিতে কর্মী ছাঁটাইয়ের আরেকটি ধাপ আসন্ন এবং বড় ধরনের পুনর্গঠন চলছে। এর আওতায় ইপিএ-র গবেষণা বিভাগ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং বিলিয়ন ডলারের অনুদান বাতিল করা হচ্ছে।
চিঠিতে বর্তমানে কর্মরত এবং সম্প্রতি বরখাস্ত হওয়া শতাধিক কর্মী সই করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত নাগাদ চিঠির প্রকাশিত সংস্করণ থেকে সইকারীদের নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এর আগে, একটি অভ্যন্তরীণ কপি ইপিএ প্রশাসক লি জেলডিনের কাছে পাঠানো হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার ইপিএ-র বিবৃতিতে বলা হয়, “পরিবেশ সংস্থার ক্যারিয়ারধারী আমলারা যদি বেআইনিভাবে সরকারের নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেষ্টা করেন, তাহলে তা বরদাশত করা হবে না।” সংস্থাটি আরও জানায়, সরকারি পদবি ব্যবহার করে চিঠিতে সই করায় ১৩৯ কর্মীকে তদন্তাধীন অবস্থায় ছুটিতে রাখা হয়েছে।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, ইপিএ পুনর্গঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর একত্রিত করা হবে, যাতে নিয়ম-কানুন সহজ করা যায় এবং জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
উল্লেখ্য, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মীদের স্বাধীন মত প্রকাশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এর আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। গত জুনে জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার (এনআইএইচ) শতাধিক কর্মী সংস্থার পরিচালককে চিঠি দিয়ে গবেষণার রাজনৈতিকীকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। এবার ইপিএর ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও জোরালো হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।