আলস্কায় ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠকের আগে বেশ চাপে রয়েছে কিয়েভ। বৈঠকটির জন্য উন্মুখ হয়ে প্রতীক্ষা করছে কিয়েভের তরুণ-তরুণীরা।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদককে এমনটাই জানালেন ইউক্রেনের ২৪ বছর বয়সি টিকটকার ভ্যালেরিয়া শ্যাশেনোক।
চলতি সপ্তাহেই বন্ধুর জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে ল্যান্ডমাইন হামলায় মারা যায় ভ্যালেরিয়ার ১৮ বছর বয়সি চাচাতো ভাই। তার কথাও স্মরণ করেন ভ্যালেরিয়া।
ভ্যালেরিয়া বিবিসিকে বলেন, ‘কিয়েভের ২০ বছরের কম বয়সিরা এখন এ বিষয়েই কথা বলছে-আমরা এই বৈঠকের জন্য অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম। এই যুদ্ধ আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।’
ভ্যালেরিয়া জানান, তিনি সেই দিনের ‘স্বপ্ন’ দেখছেন, যখন রাশিয়ান সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো-লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং খেরসন—ইউক্রেনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
তার মতে, এসব কথা বলাও ‘বেদনাদায়ক’ এবং ‘কঠিন’। তবে সেসব অঞ্চল ফেরত পাওয়া ‘অলৌকিক ঘটনা’।
ট্রাম্প ও পুতিনের বৈঠক থেকে তার মূল প্রত্যাশা হলো- ‘কম ক্ষেপণাস্ত্র’। অর্থাৎ রাশিয়া থেকে ইউক্রেন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিমাণ কমে যাওয়া।
কিয়েভবাসীর অবস্থার বিবরণ দিয়ে এই টিকটকার আরও বলেন, ‘দিনের বেলায়, কিয়েভে জীবন ঠিকই আছে – আমরা রেস্তোরাঁ এবং সঙ্গীত উৎসবে যাই এবং ডেটে যাই। কিন্তু রাতের বেলায়- আপনি জানেন না যে, একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র কখন আপনার প্রাণ কেড়ে নিতে পারে।’
আগামীকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আলাস্কায় বৈঠক করতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিন। এ বৈঠকের বিষয়ে সোমবার হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, পুতিনের পরিকল্পনা বুঝতেই তিনি আলাস্কায় যাচ্ছেন। বৈঠকের শুরুতে যদি মনে হয় কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা নেই তাহলে আলোচনা ভেস্তে দিতেও প্রস্তুত আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প-পুতিনের আসন্ন বৈঠককে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে স্পর্শকাতর আলোচনা হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

