ইসরাইলি বাহিনী ধারাবাহিকভাবে ইরানের নিরাপত্তা নেতৃত্বের শীর্ষ ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করে অভিযান পরিচালনা করছে। সম্প্রতি লারিজানি এবং সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঘাত হিসেবে বিবেচনা করছে। ইসরাইলি বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশলী হামলার মাধ্যমে তারা ইরানের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে।
তবে এই দুই লক্ষ্যবস্তুকে ঘিরে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভিন্ন ভিন্ন বয়ান তৈরি করছেন। লারিজানিকে তিনি ইরানের শাসনযন্ত্র পরিচালনাকারী একজন ‘গ্যাংস্টার বস’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও সোলেইমানিকে চিত্রায়িত করছেন একজন ‘স্বৈরশাসক’ ও ‘বিক্ষোভ দমনকারী’ হিসেবে। সোলেইমানির হত্যাকাণ্ডকে ইসরাইল মূলত ইরানি জনগণের ওপর চেপে বসা দমনমূলক শাসনের বিরুদ্ধে একটি বড় আঘাত হিসেবে প্রচার করছে।
যদিও লারিজানি কৌশলগতভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন, তবুও ইসরাইল বর্তমানে সোলেইমানির বিষয়টি নিয়ে বেশি প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মূল কারণ হলো নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ন্যারেটিভ বা প্রচারকৌশল। তিনি ইরানি সাধারণ মানুষকে বোঝাতে চাইছেন যে তিনি তাদের শত্রু নন, বরং তাদের পক্ষে আছেন। নিজেকে ইরানের ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাইছেন, যাতে দেশটির সাধারণ জনগণ বর্তমান শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সরকারকে উৎখাত করে।
তবে নেতানিয়াহুর এই ‘মুক্তিদাতা’ ইমেজ তৈরির প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ গত কয়েক সপ্তাহের টানা বিমান হামলায় ইরানে অসংখ্য সাধারণ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। যুদ্ধের এই ধ্বংসলীলার মাঝে সাধারণ ইরানিরা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর এই দাবিকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

