পাকিস্তানে বিরোধী দল ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চলমান দমন-পীড়নের বিষয়ে শুনানি আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের টম ল্যান্টস হিউম্যান রাইটস কমিশন। সোমবার কমিশনের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে একটি ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, শুনানিটি সরাসরি ও অনলাইনে সম্প্রচারযোগ্য হবে এবং এতে পাকিস্তান সরকারের রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগ, বিরোধী নেতাদের ওপর নিপীড়ন, স্বাধীন সাংবাদিকতার দমন এবং গণমাধ্যম ও যোগাযোগের ওপর নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
কমিশন জানিয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড পাকিস্তানের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে তা যাচাই-বাছাই করা হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা ও প্রচারে নিবেদিত এই সংস্থা জানায়, তারা ‘ইউনিভার্সাল ডিক্লারেশন অব হিউম্যান রাইটস’-সহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কাঠামোর আলোকে এই বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবে।
অনেক বিশ্লেষকের মতে, পাকিস্তানে বর্তমান দমন-পীড়নের সূচনা ২০২২ সালে, যখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হন, পরে দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডিত হয়ে কারাবরণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ২০২৩ সালের মানবাধিকার প্রতিবেদনে পাকিস্তানে একাধিক গুরুতর উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে দমনমূলক কর্মকাণ্ড।
কমিশনের মতে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার ওপর ‘অযৌক্তিক নিয়ন্ত্রণ’ আরোপ করা হয়েছে, যা নির্বাচনী সহিংসতা ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা দিয়ে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি বিবৃতিও উদ্ধৃত করা হয়।
শুনানিতে যারা সাক্ষ্য দেবেন তাদের মধ্যে রয়েছেন—অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধি বেন লিন্ডেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনজীবী জ্যারেড জেনসার, আফগানিস্তান ইমপ্যাক্ট নেটওয়ার্কের সাদিক আমিনি এবং ইমরান খানের উপদেষ্টা জুলফিকার বুখারি।
শুনানিটি কংগ্রেস সদস্য, স্টাফ, গণমাধ্যম ও সাধারণ দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং এটি টম ল্যান্টস কমিশনের ওয়েবসাইট ও মার্কিন কংগ্রেসের ডিজিটাল চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

