ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পারস্য উপসাগরের আকাশে আমেরিকার শক্তিশালী ‘গুপ্তচর’ ড্রোনের আনাগোনা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটি থেকে একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৪বি ‘ট্রাইটন’ ড্রোন উড্ডয়ন করে পারস্য উপসাগর, সৌদি আরব এবং ইরাকের ওপর দিয়ে নজরদারি চালায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আগে তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই ড্রোনগুলো মোতায়েন করা হয়েছে।
এমকিউ-৪বি ট্রাইটন মূলত নৌবাহিনীর জন্য তৈরি একটি বিশেষ ড্রোন, যা ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় একটানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় উড়তে সক্ষম। ৩৬০-ডিগ্রি রাডার প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ এই ড্রোনটি বিশাল জলরাশি ও উপকূলীয় অঞ্চলের লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও সেগুলোর গতিবিধি ট্র্যাকিং করতে পারে। গত সপ্তাহেও ফ্লাট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে ইরানের উপকূলের কাছাকাছি এই ধরনের ড্রোনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া আজারবাইজানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ড্রোনের পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর পি-৮এ পসাইডন টহল বিমানগুলোও ইরানের আকাশসীমার কাছাকাছি সক্রিয় রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি বিশাল সামরিক অভিযান বা ‘পুরোদস্তুর যুদ্ধ’ শুরু করার চূড়ান্ত অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি দ্বিগুণ করা হয়েছে।
ইতোমধ্যে পারস্য উপসাগরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড—এই দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী বা ‘ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ’ মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ১৫০টি কার্গো ফ্লাইটের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আরও ৫০টি এফ-৩৫ ও এফ-২২ যুদ্ধবিমানকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে সামরিক মহড়া চালানো হচ্ছে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি নতুন চুক্তিতে আসার জন্য প্রবল আগ্রহী। তার মতে, গত গ্রীষ্মে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর তেহরান এখন ওয়াশিংটনের শক্তি সম্পর্কে সচেতন।
ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান গতবার তার শক্তিকে অবমূল্যায়ন করে ভুল চাল চেলেছিল, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনেক বেশি গুরুতর।

