জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শাফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের সীমানা ঠিকই থাকবে; কিন্তু বাংলাদেশকে বাংলাদেশের মতো করে সাজানো হবে। অনেকে বলে, এটা সিঙ্গাপুর হবে, কানাডা হবে। আমরা বলি না, এটা উত্তম বাংলাদেশ হবে। যে বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ বলবে— আলহামদুলিল্লাহ, আমি একজন বাংলাদেশি।
আরো সহজভাবে বলবে, আমিই বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সেই বাংলাদেশ চাই, যে বাংলাদেশে শিশু-বৃদ্ধ, আবাল-বণিতা—সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। যে বাংলাদেশে আমার মায়েরা ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে নিরাপদ থাকবে, সমাজ তাদের মর্যাদা দেবে—সেই বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি।
আমরা সেই শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেই শিক্ষাব্যবস্থা লড়াকু একজন সৈনিক তৈরি করবে, যে দেশটাকে গড়ে দেবে। আমাদের যুবকরা কারো কাছে বেকার ভাতা চায় না। আমরা ওয়াদাবদ্ধ। আমরা গ্রামীণ অর্থনীতিকে পাল্টে দেব।
’
দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, মানে আজাদি, আর না মানে গোলামি।’
জনসভায় তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় জামায়াতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের প্রতিটি শিশুর শিক্ষার ব্যয়ভার রাষ্ট্র বহন করবে। প্রাথমিক থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষাই হবে জাতি গঠনের প্রধান হাতিয়ার।’
তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা বেকার ভাতা চায়নি, তারা চেয়েছে কাজের অধিকার।
’
যুবসমাজকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তরুণদের সঠিক শিক্ষা ও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এরপর তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে যোগ্য ও সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ।
তিনি আরো বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় আনুগত্য নয়, বরং যোগ্যতা ও দেশপ্রেমই হবে একমাত্র মাপকাঠি। একই সঙ্গে তিনি সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থীদের মাঝে কোনো ব্যাংক ডাকাত, চাঁদাবাজ-মামলাবাজ নেই।’
তিনি বলেন, ‘কর্মস্থলে যেসব মা-বোনেরা কাজ করেন; তাদের জন্য বেবি কেয়ার, ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হবে জায়গায় জায়গায়। শিল্প এবং ঘন এলাকায় তাদের জন্য আলাদা বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। রাষ্ট্রকে তারা দিয়েই যাবে, আর তাদের মূল্যায়ন রাষ্ট্র করবে না, এটা হতে পারে না। এই রাষ্ট্র শ্রমিকদের দাবি আদায়ের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মুখোমুখি করবে না। শ্রমিক না চাইতেই তার দাবি পৌঁছে দিতে হবে। এই নীতিমালার ভিত্তিতে আমরা দেশটাকে গড়তে চাই।’
রাজশাহী মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা কেরামত আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের এমপি প্রার্থী মনজুর রহমান, রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনের প্রার্থী নাজমুল হক, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের প্রার্থী আব্দুল বারী, রাজশাহী-৩ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহী-২ (সদর) আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।

