শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

বাণিজ্য ঘাটতি ৮ মাসে দুই লাখ কোটি টাকা অতিক্রম

শুক্রবার, এপ্রিল ১০, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি এক হাজার ৬৯১ কোটি ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকার বেশি। দেশে আমদানির তুলনায় রপ্তানি না-বাড়ায় ঘাটতি বেড়েছে।২০২৪-২৫ অর্থবছরে একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

অর্থনীতিবিদেরা বলেন, গত ফেব্রুয়ারি-মার্চে রমজান মাস ঘিরে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়েছিল। একই সময় রপ্তানি আয় অস্বাভাবিকহারে কমে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে হবে। তা না হলে সংকটে পড়বে অর্থনীতি।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট-বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে দেশে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করা হয়েছে চার হাজার ৬১৭ কোটি ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমকি ৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে প্রথম ৮ মাসে আমদানি হয়েছিল ৪৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

অন্যদিকে আলোচিত সময় পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আগের অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখি থাকায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে বাংলাদেশ।

চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স এখন সামান্য ঋণাত্মক আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরে ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় আছে। আলোচিত সময় সামগ্রিক লেনেদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার। এই সূচকটি আগের বছর একই সময় ১১৫ কোটি ডলার ঘট‌তি ছিল।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে দুই হাজার ২৪৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশীরা। আগের বছর পাঠিয়েছিলেন এক হাজার ৮৮৭ কোটি ডলার। প্রবৃদ্ধি ২১ দশমকি ৪ শতাংশ।