ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ের ঘটনা যেমন আছে, তেমনি দেড় লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ের নজিরও রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন পার্বত্য রাঙামাটি আসনে বিএনপির প্রার্থী দীপেন দেওয়ান।
অপরদিকে সবচেয়ে কম ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। তিনি মাদারীপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন। তার কাছে মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার।
এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী। এ পর্যন্ত ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ও তার মিত্র দলগুলো ২১২টি, জামায়াতে ইসলামী ও মিত্র দলগুলো ৭৭টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন। আইনি জটিলতার কারণে দুটি আসনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি।
গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেড় লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন মোট চারজন প্রার্থী। তাদের মধ্যে তিনজন বিএনপির এবং একজন জামায়াতে ইসলামীর। তারা হলেন- রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ, জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এবং সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল খালেক।
এছাড়া এক লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আরও ২৬ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে ২৪ জন বিএনপির, ১ জন জামায়াতের এবং ১ জন জামায়াতের নির্বাচনি জোটে থাকা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)।
সর্বাধিক ভোটে জয়ী দীপেন দেওয়ান রাঙামাটিতে হারিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমাকে। তাদের ভোটের ব্যবধান ১ লাখ ৭০ হাজার ৩২২। ধানের শীষ প্রতীকে দীপেন দেওয়ান পেয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ৫৪৪ ভোট। পহেল চাকমা ফুটবল প্রতীকে পান ৩১ হাজার ২২২ ভোট। এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখের বেশি।
রাজবাড়ী-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৫ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির জামিল হিজাযী পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। এ আসনে ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৫ লাখের বেশি।
জামালপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬ হাজার ২১৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. মুজিবুর রহমান আজাদী পেয়েছেন ৪৪ হাজার ১৬১ ভোট। এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি।
সাতক্ষীরা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল খালেক ১ লাখ ৫০ হাজার ৭৩০ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মো. আবদুর রউফ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২২৯ ভোট। এ আসনে ৫ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছেন।
অন্যদিকে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা রিকশা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৯০৯ ভোট। বিএনপির নাদিরা আক্তার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫২৪ ভোট। আসনটিতে মোট ভোটার ছিলেন সোয়া ৩ লাখের বেশি।
এরপর সবচেয়ে কম ৫৯৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন সিরাজগঞ্জ–৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম খান। তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এম আকবর আলী পান ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট। এ আসনে ভোটার সংখ্যা পৌনে ৫ লাখের বেশি।
কক্সবাজার–৪ আসনে ৯২৯ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির শাহজাহান চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৯০৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী। তিনি পান ১ লাখ ২১ হাজার ৯৮০ ভোট। এই আসনে ভোটার পৌনে ৪ লাখের বেশি।
চট্টগ্রাম–১৪ আসনে ১ হাজার ২৬ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির জসীম উদ্দীন আহমেদ। তিনি পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৯৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের নির্বাচনি ঐক্যে থাকা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওমর ফারুক। তিনি পান ৭৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। এই আসনে ভোটার ৩ লাখ ১৩ হাজারের বেশি।
এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৫ আসনে ১ হাজার ৬১ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন বিএনপির মো. আবদুল মান্নান। তিনি পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন। তিনি পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট। এই আসনে ভোটার প্রায় পৌনে ৫ লাখ।

