যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বার্তা এবং রুশ জনগণের সমর্থন ইরানকে অনুপ্রাণিত করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার জনগণের সমর্থন এবং পুতিনের বার্তা এই যুদ্ধে আমাদের সাহস জোগাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ইরানি জনগণের প্রতিরোধ ও সাহস আঞ্চলিক দেশগুলোর মাধ্যমে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলবে। রাশিয়ার সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে, ইরানকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘চূড়ান্ত আঘাত’ হানতে স্থলবাহিনী ব্যবহার এবং ব্যাপক বোমা হামলার পরিকল্পনাও বিবেচনায় ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারত। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খার্গ, লারাক ও আবু মুসা দ্বীপসহ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো এবং হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ইরানি তেলবাহী জাহাজ অবরোধের বিষয়টিও বিবেচনায় ছিল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন, ‘অপ্রতিরোধ্য শক্তি প্রদর্শন’ করলে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, তুরস্ক, পাকিস্তান এবং মিসর এখনও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিক দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে, তবে পুরোপুরি আলোচনা থেকে সরে যায়নি।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা সম্ভাব্য স্থল অভিযানকে এখনো ‘কাল্পনিক’ হিসেবেই দেখছেন।

