রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

লেবাননে অভিযানের নামে ইসরাইল ‘সাইকোপ্যাথিক’ হামলা চালাচ্ছে

রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

লেবাননে যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করেই নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করেছে ইসরাইল। ‘অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস’ বা ‘অনন্ত অন্ধকার’ নামের এক অভিযানের মাধ্যমে মাত্র ১০ মিনিটে দেশটির ১০০টিরও বেশি স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০০ জন নিহত এবং সহস্রাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

ইসরাইল সাধারণত শিয়া-প্রধান এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানালেও এবারের অভিযানে তারা পুরো লেবাননজুড়ে ‘কার্পেট বোম্বিং’ শুরু করেছে। এমনকি বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির নিকটবর্তী আবাসিক এলাকাগুলোও বাদ পড়েনি।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) এমনই এক হামলায় বৈরুতের একটি অ্যাপার্টমেন্টে পাঁচ নারী ও এক শিশু প্রাণ হারান, যারা মূলত দক্ষিণ লেবাননের যুদ্ধ থেকে বাঁচতে সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

এদিকে ১৬ এপ্রিল ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পরপরই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে শেল হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পরের সাত মাসেও ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৫০ জন লেবাননি প্রাণ হারিয়েছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, ইসরাইল কখনোই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি মেনে চলেনি।

উল্লেখ্য, চলমান এই সংঘাতের ফলে লেবাননে নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে এবং ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আটকা পড়ে আছেন অগণিত মানুষ। ইসরাইলের এই সামরিক অভিযানের ধরনকে বিশ্লেষকরা গাজায় চালানো গণহত্যার সাথে তুলনা করছেন। দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের ভূমি দখলের প্রচেষ্টা এবং প্রতিনিয়ত আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় দেশটির ভবিষ্যৎ গভীর অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

১৯৭৮ এবং ১৯৮২ সালের পর এবারও লেবাননজুড়ে ধ্বংসলীলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ইতিহাসবিদদের মতে, ইসরাইলের এই অভিযানের মূল লক্ষ্য লেবাননের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে জনগণকে বাস্তুচ্যুত করা। ‘অপারেশন ইটারনাল ডার্কনেস’ নাম থেকেই স্পষ্ট যে, ইসরাইল এই সংঘাতকে দীর্ঘস্থায়ী করতে চায়।

আল জাজিরার কলামিস্ট এবং বিশিষ্ট লেখিকা বেলেন ফার্নান্দেজ এই অভিযানকে ইসরাইলের ‘উন্মত্ত ধ্বংসলীলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।