শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

‘শান্তি পর্ষদ’-এর আড়ালে গাজায় সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের নথি ফাঁস!

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২০, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ‘শান্তি পর্ষদ’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে ‘শান্তি ‘পর্ষদ’-এর আড়ালে গাজায় ৩৫০ একরের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনার নথি ফাঁস করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

নথির বরাতে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর’ (আইএসএফ) সামরিক অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত হবে ঘাঁটিটি।

গণমাধ্যমটির পর্যালোচিত নথি অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্যের জন্য ৩৫০ একর জায়গাজুড়ে এই ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে। নথিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী-আইএসএফ এর জন্য এটি একটি অপারেশনাল বেস হিসেবে কাজ করবে। যা শান্তি পরিষদের অধীনে ডনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।

নথিতে ধাপে ধাপে একটি সামরিক আউটপোস্ট নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যার চূড়ান্ত আয়তন হবে দৈর্ঘে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার ও প্রস্থে ১ হাজার ১০০ মিটার।

কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা থাকবে পুরো ঘাঁটি। এতে থাকবে ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার, ছোট অস্ত্র প্রশিক্ষণ রেঞ্জ, বাঙ্কার ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার গুদাম।

ঘাঁটির জন্য দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতল এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নথিতে ৬ মিটার লম্বা, ৪ মিটার প্রস্থ ও আড়াই উচ্চতার বাঙ্কার নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যেখানে উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা থাকবে, যেন যুদ্ধাবস্থায় সেনারা আশ্রয় নিতে পারে।

এদিকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ‘শান্তি পর্ষদ’-এর বৈঠকে অংশ নেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। তবে সেখানে ফিলিস্তিনিদের কোনো প্রতিনিধি ছিলো না। যোগ দেয়নি যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানিসহ ইউরোপের প্রভাবশালী দেশ। গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকলেও যুদ্ধ শেষে বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

এদিন সভায় ট্রাম্প গাজার পুনর্গঠনের জন্য ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেন। এছাড়া প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার তহবিল প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেয় কাতার, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ। ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনীতে সেনা পাঠানোর এবং মিশর ও জর্ডান পুলিশ প্রশিক্ষণে সহায়তার আশ্বাস দেয়।