মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

হরমুজ অবরোধের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে ওঠে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার ব্যর্থতার পর ইরানের বন্দরে অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন। এর পরপরই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২.০২ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০৩.৭৮ ডলারে ওঠে।

এর আগে, গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যার কারণে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। কিন্তু সর্বশেষ কূটনৈতিক অচলাবস্থায় বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র এবং দখলদার ইসরাইলের হামলার জবাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ প্রবাহিত হয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি মূল্য বেড়ে যায় এবং পেট্রল ও ডিজেলের দামও বৃদ্ধি পায়।

তবে ইরান তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, ১ মার্চের পর খারগ দ্বীপ থেকে ৫৮ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল রপ্তানি হয়েছে, যার ৯০ শতাংশেরও বেশি চীনে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। ইরান এ পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করে পালটা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

চীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এর নিরাপত্তা ও অবাধ চলাচল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বার্থের জন্য অত্যন্ত জরুরি।