বৃহস্পতিবার, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

৫ আগস্ট কেন কাশ্মীরের ‘কালো দিবস’?

বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

৫ আগস্ট, ২০১৯। ভারতের ইতিহাসে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন রাষ্ট্রপতির আদেশে ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন দেওয়া সংবিধানের ‘৩৭০ ধারা’ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা তুলে দিয়ে এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়।

এরপর থেকে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ৫ আগস্টকে ভারতের মূলধারার সঙ্গে কাশ্মীরের একীভূত হওয়ার দিন হিসেবে পালন করে। তবে জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কনফারেন্স (জেকেএনসি) এই দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে।

জম্মু ও কাশ্মীরের পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) ‘৩৭০ ধারা’ পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে। ধারা বাতিলের সপ্তম বার্ষিকীর আগের রাতে দলটির প্রধান মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বে শ্রীনগরে একটি মোমবাতি মিছিল করা হয়।

পিডিপি নেতারা অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ চলাকালে মেহবুবা মুফতির মেয়ে ইলতিজা মুফতিকে আটক করা হয়েছে।

মেহবুবা মুফতি বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এটি একটি কালো রাত। আমরা প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছি। যতদিন না কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হচ্ছে এবং ‘৩৭০ ধারা’ ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ততদিন আমরা নীরব থাকব না।’

পিডিপি জানিয়েছে, তারা জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলায় আরও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।

ন্যাশনাল কনফারেন্সেরও প্রতিবাদ কর্মসূচি

ন্যাশনাল কনফারেন্সও শ্রীনগরে দলীয় কার্যালয়সহ জম্মু ও কাশ্মীরের সব জেলায় প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতা রতন লাল গুপ্ত বলেন, ‘জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক অধিকার একতরফাভাবে ও অসাংবিধানিকভাবে বাতিল করার প্রতিবাদে আমরা ৫ আগস্টকে কালো দিবস হিসেবে পালন করছি। একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বারবার আশ্বাস সত্ত্বেও রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে না দেওয়ার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

দিল্লিতেও ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য চৌধুরী রমজান বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের সদস্যদের সংসদের বাইরে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

যদিও ৩৭০ ধারা বাতিলের বিষয়ে ইন্ডিয়া জোটের অনেক দল নীরব থেকেছে, তবে কংগ্রেসসহ বেশিরভাগ দলই জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছে।

রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর দাবি

সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও তার বাবা ফারুক আবদুল্লাহ দিল্লিতে বিক্ষোভ করে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। ন্যাশনাল কনফারেন্সের অভিযোগ, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।

২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় সরকার ভারতের সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা সাময়িক এবং বিধানসভা নির্বাচন শেষে রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখনো রাজ্যের মর্যাদা ফেরানোর বিষয়ে কোনো সময়সীমা ঘোষণা করেনি কেন্দ্র।

সরকার গঠনের পর ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন প্রথম মন্ত্রিসভা রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহালের দাবিতে একটি প্রস্তাব পাস করে। পরে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভাও একই দাবিতে প্রস্তাব গ্রহণ করে।

‘৩৭০ ধারা’ বাতিল নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত

বিজেপি বরাবর দাবি করে আসছে, ‘৩৭০ ধারা’ বাতিল এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার ফলে সন্ত্রাসবাদ কমেছে এবং উপত্যকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরেছে।

তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার পর ন্যাশনাল কনফারেন্স বিজেপির এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। দলটির দাবি, কাশ্মীরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই।