বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ফেনীর উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভোগান্তি: রেলপথেই মুক্তির আশা

বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২৮, ২০২৫

প্রিন্ট করুন

ফেনী-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলার সম্পূর্ণ এলাকা এবং ছাগলনাইয়া উপজেলার আংশিক এলাকা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য দ্বারা উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে পরিবেষ্টিত। প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস এই অঞ্চলে, যাদের প্রতিদিনের নানা প্রয়োজনে ফেনী জেলা শহরে যাতায়াত করতে হয়।

১৯২৯ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ‘ফেনী-বিলোনিয়া রেললাইন’ স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফেনী এবং ভারতের ত্রিপুরার বিলোনিয়া শহরের মধ্যে রেলযোগাযোগ চালু করে। এই রেললাইনটি এক সময় এ অঞ্চলের মানুষের জন্য জেলা শহর এবং সারাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান এবং কার্যকর মাধ্যম ছিল। মূলত, ফেনী-বিলোনিয়া রেল লাইনের জন্যেই ফেনী রেলস্টেশনের নাম ফেনী জংশন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ১৯৯৭ সালের ১৭ই আগস্ট তৎকালীন সরকার এই রেল যোগাযোগটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এর পর কেবল একটি সড়কপথই যাতায়াতের বিকল্প হিসেবে চালু থাকে।

শুরুর দিকে এই রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকাল বাস চালু ছিল। বর্তমানে এই ২০ কিলোমিটার পথে লোকাল বাস প্রায় নেই বললেই চলে। এক দশক ধরে স্থানীয় কিছু নেতার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিএনজি চালিত অটোরিকশা সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন কলা কৌশলের মাধ্যমে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিতে বাধ্য করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছে। এতে করে মাত্র ২০ কিলোমিটার পথের ভাড়া এখন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এই সিন্ডিকেট নতুন কোনো বাস নামার ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যাতে করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য বজায় থাকে। অথচ ফেনী জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

বর্তমানে যে সড়কটি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি অত্যন্ত সরু এবং অপ্রতুল। অথচ সামান্য সংস্কারেই পুরনো রেলপথটি আবার সচল করা সম্ভব। এতে মানুষের ভোগান্তি কমবে, সিএনজি সিন্ডিকেটের শোষণ বন্ধ হবে এবং বিলোনিয়া স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্বও বাড়বে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিলোনিয়া স্থলবন্দর পর্যন্ত রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহণে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা সময় লাগবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে অল্প সময়ে পণ্য আনা-নেওয়া করা গেলে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ রাজ্য, বিশেষ করে ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য নতুন গতিতে এগিয়ে যাবে।

বর্তমানে, ফেনী-পরশুরাম সড়কটি প্রশস্ত করার কাজ চলছে।মূলত, বিলোনিয়া স্থলবন্দর এর কার্যক্রমকে টার্গেট করেই এই সড়কটির প্রশস্তকরণ কাজ করছে। বর্তমানে, এই সরু সড়ককে, পুরো এলাকার মানুষ-ফেনী শহর তথা সারা বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সরু সড়ক দিয়ে একদিকে যাত্রী এবং অন্যদিকে মালামাল পরিবহণ শুরু হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বহুগুণে বেড়ে যাবে।

তাছাড়া, সিএনজি চালিত অটোরিকশা বর্তমানে যোগাযোগের মাধ্যম হওয়ায় প্রচুর পরিমাণ দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা বিস্মিত হই, যেখানে কার্যকর রেললাইন বিদ্যমান, সেখানে সরকার কেন রেলপথে মালামাল পরিবহনের উদ্যোগ না নিয়ে সড়ক ব্যবহারের দিকে এগোচ্ছে।

আমাদের দাবি

বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের জোর আবেদন-স্থানীয় জনগণের এই দীর্ঘদিনের দুর্দশা বিবেচনা করে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমরা আশাবাদী, রেলপথ পুনরায় চালু করে যোগাযোগ ও বাণিজ্যকে সচল করলে উত্তর ফেনীর মানুষ অবশেষে মুক্তি পাবে।