বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

বিক্ষোভে উত্তাল নেপাল, হাসপাতালে রক্তের তীব্র সংকট

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৫

প্রিন্ট করুন

নেপালে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে আহতদের চিকিৎসার জন্য রক্তের চাহিদা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। আহতদের চিকিৎসায় রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির স্বাস্থ্য খাত।

জাতীয় ব্লাড ব্যাংক সেন্ট্রাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিসের টেকনিক্যাল কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার যাদব জানান, কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে শত শত আহত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাজার হাজার ব্যাগ রক্ত প্রয়োজন হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘শুধু সোমবার সকাল থেকে আমরা ১ হাজার ২০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছি। এর মধ্যে ২০০টিরও বেশি ব্যাগ ইতোমধ্যেই ন্যাশনাল ট্রমা সেন্টার ও বীর হাসপাতাল পাঠানো হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোতেও দ্রুত রক্ত পাঠানো হবে।’

তিনি আরও জানান, বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্তের জন্য ফোন আসছে। তবে আশার বিষয় হলো, শত শত তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে এগিয়ে আসছেন। এ জন্য ব্লাড ব্যাংকের ২০ জন কর্মী সারাক্ষণ সংগ্রহ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর নেপালের সুপ্রিম কোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে সরকারিভাবে নিবন্ধিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন সরকার নিবন্ধনের জন্য ২৮ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করায় গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবসহ ২৬টি প্ল্যাটফর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে নেপালের তরুণ প্রজন্ম। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারের এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেন। রোববার থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সোমবার ব্যাপক রূপ নেয়। কাঠমান্ডুতে কারফিউ অমান্য করে বিক্ষোভে অংশ নেন হাজারো মানুষ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে বাণেশ্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলি চালায়। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।