মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

হংকংয়ের গণমাধ্যমকর্মীকে মুক্তি দিতে শি’র প্রতি ট্রাম্পের আহ্বান

শুক্রবার, নভেম্বর ৭, ২০২৫

প্রিন্ট করুন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় সরাসরি জিমি লাইয়ের মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। আলোচনায় অবগত তিন ব্যক্তি ও একজন মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প জিমি লাইয়ের মুক্তির জন্য কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেননি, তবে ৭৭ বছর বয়সি এই প্রকাশকের দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর তার স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এক সূত্র জানায়, ট্রাম্প এই বিষয়টি নিয়ে পাঁচ মিনিটেরও কম সময় কথা বলেন।

একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জিমি লাইয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন, যেমনটি তিনি আগেই বলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রেসিডেন্ট শি এ নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেন।’

অন্য এক সূত্র জানায়, ট্রাম্পের মতে, জিমি লাইয়ের মুক্তি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের জন্য ইতিবাচক হবে এবং এটি চীনের ভাবমূর্তি উন্নত করবে।

চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে বিচারের মুখোমুখি জিমি লাই বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় আছেন। ২০১৯ সালে হংকংয়ে গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভের পর থেকে তার বিচারকে চীনের দমননীতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

লাই, যিনি এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া গণতন্ত্রপন্থি সংবাদপত্র অ্যাপল ডেইলি-এর প্রতিষ্ঠাতা, বিদেশি শক্তির সঙ্গে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রবিরোধী প্রকাশনা প্রচারের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে তিনি জিমি লাইয়ের বিষয়টি উত্থাপন করবেন, তবে বৈঠকের পর উভয় পক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রসঙ্গের উল্লেখ ছিল না।

হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেন, ‘জিমি লাইয়ের অপরাধ হংকংয়ের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের যে কোনো চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’

যদিও জিমি লাই ব্রিটিশ নাগরিক, তার মামলাটি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ‘নিশ্চিতভাবেই’ জিমি লাইকে মুক্ত করাবেন।

লাইয়ের ছেলে সেবাস্টিয়ান লাই সম্প্রতি ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মানবাধিকার রক্ষার দৃঢ় অবস্থানের কারণে আমি আশা করি তিনি শি জিনপিংকে বোঝাতে সক্ষম হবেন যেন আমার বাবাকে মুক্তি দেওয়া হয়।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় হওয়া ওই বৈঠকে ট্রাম্প ও শি বাণিজ্যকেন্দ্রিক নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, বিরল মাটির খনিজ রপ্তানি ও ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ নিয়ন্ত্রণে চীনের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে।

জিমি লাইকে তার পরিবার ও অধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, ১,৭০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে একক কারাবাসে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হংকংয়ের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগার স্ট্যানলি প্রিজনে রয়েছেন এবং রায় ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তার হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং তাকে ওষুধ ও হার্ট মনিটর দেওয়া হয়েছে।