বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ফেনী-১ আসনের পাঁচবারের সংসদ সদস্য বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ তার পৈতৃক ভিটা ফেনীর জনপদ। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলেন, ফেনীর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার সম্পর্ক ছিল। দলীয় যে কোনো কর্মসূচিতে ফেনী এলে তিনি ফুলগাজী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুরের মজুমদার বাড়ির পৈতৃক বাড়িতে যেতেন। এখন অভিভাবক হারানোর বেদনায় শোকে কাঁদছে সর্বস্তরের মানুষ।
ফেনী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পাটোয়ারী বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে আমরা ফেনীবাসী সবসময় গর্ব করতাম। এই জেলায় ‘ফেনীর মেয়ে খালেদা, গর্ব মোদের আলাদা’—এই স্লোগান রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনন্য মাত্রা ছিল। তার মৃত্যুতে আজ সবকিছুর অবসান ঘটেছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনের প্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীরা তার পক্ষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পর্যায়ে আর কেউ পৌঁছাতে পারেনি। ফেনীর ট্রাংক রোডে বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম কর্মসূচিতে আসার দিনে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। পরবর্তীতে একাধিকবার আমাদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে আমরা যেন দেশনেত্রীর অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে পারি, সেই প্রত্যাশা থাকবে।
এদিকে সকাল থেকেই ফুলগাজীতে তার পৈতৃক বাড়িতে আসতে শুরু করেন স্বজন ও স্থানীয় মানুষজন। সেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় কুরআন খতমের আয়োজন করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার চাচাতো ভাই শামীম মজুমদার বলেন, এই বাড়ির সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। তার মৃত্যুর খবরে সবাই ভেঙে পড়েছে। আমাদের আশা ছিল এবারও তিনি সুস্থ হয়ে আবার এই বাড়ির আঙিনায় পা রাখবেন। কিন্তু সকালের একটি সংবাদে সবকিছু চিরদিনের জন্য ম্লান হয়ে গেছে।

