শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

শিরোনাম

ইন্টারনেটহীন ইরান, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দেশটিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

শনিবার, জানুয়ারী ১৭, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কবলে পড়ে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইরান।

গত ৮ জানুয়ারি দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ বাইরের বিশ্ব থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দ্রুতই সহিংস রূপ নেয় এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ ৩১টি প্রদেশের সবকটিতেই ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং মোবাইল নেটওয়ার্কও আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। বর্তমানে স্থানীয় কিছু ওয়েবসাইট সচল হলেও বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেটের সংযোগ এখনো পুনরুদ্ধার করা হয়নি।

এদিকে ইরানের রাজপথগুলোতে এখন নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে সশস্ত্র টহল এবং অসংখ্য চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সহিংসতার ঘটনায় হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি প্রায় দুই হাজার ৬১৫ জনের মৃত্যুর খবর দিলেও ইরান সরকার এই পরিসংখ্যানকে অতিরঞ্জিত এবং শত্রুপক্ষের অপপ্রচার বলে দাবি করেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভের নামে ‘সন্ত্রাসী’ ও বিদেশি মদতপুষ্ট ‘এজেন্টরা’ সরকারি স্থাপনায় হামলা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা অস্বীকার করেছেন এবং হতাহতের সংখ্যার বিষয়টিকে ভুল তথ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ইরান সরকার দেশজুড়ে পালটা কর্মসূচি এবং নিহত নিরাপত্তা কর্মীদের জানাজার আয়োজন করছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ‘প্রকৃত ইরানি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তারা বিদেশি শত্রুদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে বিচার বিভাগ বিক্ষোভের দায়ে গ্রেফতারকৃতদের বিচারের জন্য বিশেষ আদালত গঠন করেছে। প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, ‘দাঙ্গাকারীদের’ প্রতি কোনো ধরনের দয়া দেখানো হবে না।

এই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য সরকার প্রতি মাসে ৭ ডলার মূল্যের ইলেকট্রনিক কুপন চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

২০২২ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হলেও, এবারের এই আন্দোলনকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং প্রাণঘাতী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের বার্তা এবং ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে পুরো অঞ্চল এখন এক গভীর উত্তেজনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।