মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

ইরান যুদ্ধ কি বহুল প্রতীক্ষিত ট্রাম্প-শি জিনপিং বৈঠক ভেস্তে দেবে?

মঙ্গলবার, মার্চ ৩, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানের বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সামরিক অভিযান এবং বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনা তার বহুল প্রতীক্ষিত চীন সফর ও প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি যখন দুই পরাশক্তির মধ্যে বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্ব প্রশমনের একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল, তখনই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত কূটনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে।

এদিকে বেইজিং ইতোমধ্যেই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনীতি নস্যাৎ করার জন্য দায়ী করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি হামলা চীনের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। কারণ দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তার একটি বিশাল অংশ মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্পের বেইজিং সফর এখন একটি বড় প্রশ্নের সম্মুখীন।

চীন যেখানে স্থিতিশীলতা এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছে, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের আক্রমণাত্মক অবস্থান দুদেশের মধ্যে আস্থার সংকটকে আরও গভীর করতে পারে। শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকে বাণিজ্য যুদ্ধের অবসানের যে লক্ষ্য ছিল, তা এখন মধ্যপ্রাচ্য সংকটের ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই সফর বাতিল বা স্থগিত হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের ব্যস্ততা দেখাচ্ছে, অন্যদিকে চীন এই সংঘাতকে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে চাপ সৃষ্টি করছে।

এই দ্বিমুখী টানাপোড়েনের ফলে শি-ট্রাম্প বৈঠকটি যদি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়ও, তবে তার মূল এজেন্ডা বাণিজ্য থেকে সরে গিয়ে পুরোপুরি যুদ্ধ ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।