রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

পোস্টাল ভোটে এগিয়ে দাঁড়িপাল্লা

শনিবার, মার্চ ৭, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটের ভোটে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডাকযোগে দেওয়া ভোটের ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশই পড়েছে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে। অন্যদিকে বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবারই প্রথম আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করেছিল ইসি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ৬৪ হাজার জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রবাসীদের পাশাপাশি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং কয়েদিরাও এই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন। গড় হিসাবে জামায়াতে ইসলামী ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪ ভোট এবং বিএনপি ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়েছে। ভোট পড়ার হার ছিল ৬৯.৯৯ শতাংশ।

এছাড়া এই পোস্টাল ভোট দুটি আসনের চূড়ান্ত জয়-পরাজয় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রেখেছে। সিরাজগঞ্জ-৪ ও মাদারীপুর-১ আসনে সাধারণ কেন্দ্রের ভোটে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে থাকলেও ডাকযোগের ভোট যুক্ত হওয়ার পর দৃশ্যপট বদলে যায়। পোস্টাল ব্যালটের জোরে এই দুটি আসনেই শেষ পর্যন্ত জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা জয়লাভ করেন।

হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের চেয়ে বেশি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। ঢাকা-১৫ আসনেও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিএনপির প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে ছিলেন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাহিদ ইসলাম এবং হাসনাত আব্দুল্লাহও নিজ নিজ আসনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পোস্টাল ভোট পেয়েছেন।

আঞ্চলিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী এবং লক্ষ্মীপুর জেলার প্রতিটি আসনেই জামায়াত জোট বেশি পোস্টাল ভোট পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ভোট পড়েছে রংপুর-২ আসনে, যেখানে এই ভোটের হার ছিল ৮৭ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে ফেনী-৩ আসন থেকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোটার এই পদ্ধতিতে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন।