বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

যা আগে কখনো দেখেনি ইরান, এবার এমনই ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প

বৃহস্পতিবার, মার্চ ১৯, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরান যদি কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় আর কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তবে ইরানের পুরো দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ড ‘ব্যাপকভাবে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চরম সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে দক্ষিণ পার্স ফিল্ডে ইসরাইলের আগের হামলার বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা কাতার কিছুই জানত না।

তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ইরান যদি ‘সম্পূর্ণ নির্দোষ’ কাতারের ওপর নতুন করে হামলা না চালায়, তবে ইসরাইলও ওই গ্যাস ফিল্ডে আর কোনো হামলা করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কাতার পুনরায় আক্রান্ত হয়, তবে ইসরাইলের সাহায্য বা সম্মতি ছাড়াই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডে এমন প্রচণ্ড শক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে হামলা চালাবে, যা ইরান আগে কখনো দেখেনি।

ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি ইরানের ভবিষ্যতের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের কথা বিবেচনা করে এত বড় মাত্রার সহিংসতা বা ধ্বংসযজ্ঞের অনুমতি দিতে চান না। তবে কাতারের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর আঘাত আসলে তিনি এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না।

এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত বৃহস্পতিবার ভোরে, যখন বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ জানায় যে তাদের বেশ কিছু স্থাপনায় মিসাইল হামলা হয়েছে। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে জানায়, রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

মূলত বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের বৃহত্তম এই দক্ষিণ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরাইলি হামলার পর ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছিল। উল্লেখ্য, ইরান ও কাতারের মধ্যে যৌথ মালিকানাধীন এই দক্ষিণ পার্স ফিল্ডটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ক্ষেত্র এবং এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির প্রধান উৎস।