শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

শিরোনাম

খারগ দ্বীপ: সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য প্রস্তুত ইরান

শুক্রবার, মার্চ ২৭, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

খারগ দ্বীপে অতিরিক্ত সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে ইরান। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

মার্কিন প্রশাসন পারস্য উপসাগরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ছোট এই দ্বীপটি দখলের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে। ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে হয়, ফলে এটি দেশটির অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ধারণা করা হচ্ছে, এই দ্বীপ দখল করে ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে চাপ দিতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অভিযানে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, বিশেষ করে মার্কিন সেনাদের ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কা।

সূত্রগুলো জানায়, ইরান দ্বীপটিতে অতিরিক্ত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে উপকূলজুড়ে অ্যান্টি-পার্সোনেল ও অ্যান্টি-আর্মার মাইন পুঁতে রেখেছে।

এদিকে, মার্কিন বাহিনী গত ১৩ মার্চ খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়ে নৌ-মাইন সংরক্ষণাগার, ক্ষেপণাস্ত্র গুদামসহ প্রায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, দ্বীপটি দখল করতে হলে শক্তিশালী উভচর (অ্যামফিবিয়াস) বাহিনী প্রয়োজন হবে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মেরিন সদস্যসহ দুটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় এক হাজার সেনাও সেখানে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্বীপটি ইরানের মূল ভূখণ্ডের খুব কাছাকাছি হওয়ায় মার্কিন বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে থাকবে। সাবেক ন্যাটো কমান্ডার জেমস স্ট্যাভ্রিডিস সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান অত্যন্ত কৌশলী ও কঠোর—তারা সর্বোচ্চ ক্ষতি করার চেষ্টা করবে।’

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো দেশ ইরানের দ্বীপ দখলের চেষ্টা করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে এই ধরনের স্থল অভিযান থেকে বিরত থাকতে পরামর্শ দিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়বে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হবে এবং পুরো অঞ্চলে আরও অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে।

তারা বরং ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এরইমধ্যে, জানিয়েছে, ইরানের বড় অংশের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে এবং বাকি লক্ষ্যবস্তুতেও শিগগিরই আঘাত হানা হতে পারে।