যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা নির্ধারণে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমি রাসকিন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সহকর্মী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ উদ্যোগের কথা জানান।
মার্কিন কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নির্ধারণে কমিশন’ শীর্ষক বিলটি শিগগিরই উত্থাপন করবেন রাসকিন। এর আগে ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের সময় একই ধরনের একটি বিল তিনি উত্থাপন করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ট্রাম্পকে অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) বা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আলোচনা জোরালো হয়েছে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার একটি পৃথক প্রক্রিয়া রয়েছে, যা ইমপিচমেন্ট থেকে ভিন্ন।
এ সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্পের এক মন্তব্য ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, ইরান সরকার যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত না করে, তাহলে ‘একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।’ এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক হামলার পর ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়।
তবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে এই বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করা হচ্ছে। স্পিকার মাইক জনসন ট্রাম্পের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
এর আগে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাবও রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে আটকে দেয়।
প্রস্তাবিত আইনে ১৭ সদস্যের একটি দ্বিদলীয় কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে, অথবা মাদক বা অ্যালকোহলসহ অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হলে, এই কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুবার অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন, তবে প্রতিবারই রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে তিনি খালাস পান।
সাম্প্রতিক ইরান অভিযান এবং এর স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ আবারও ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়টি আলোচনায় আনছে। যদিও দলের ভেতরে এ বিষয়ে একক অবস্থান নেই।

