বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

‘সুগার ড্যাডি’ খোঁজের অভিযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, তদন্ত শুরু

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকেও বিলাসবহুল জীবনযাপনের নেশা এবং সেই খরচ মেটাতে ‘সুগার ড্যাডি’ খোঁজার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ২৯ বছর বয়সি জুলিয়া ভারভারো, যিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি-এর কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন বিভাগের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হিসেবে কর্মরত, তার বিরুদ্ধেই এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

‘ডেইলি মেইল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘রবার্ট বি’ নামক এক বিচ্ছেদপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তার অভিযোগের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। রবার্টের দাবি, ‘হিঞ্জ’ ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে জুলিয়ার সঙ্গে তার তিন মাসের সম্পর্ক চলাকালে জুলিয়া তার কাছ থেকে প্রায় ৪০ হাজার ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা) হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অর্থ খরচ করা হয়েছে কার্টিয়ার জুয়েলারি, দামী হ্যান্ডব্যাগ এবং আরুবা, সুইজারল্যান্ড ও ইতালিতে বিলাসবহুল ভ্রমণের পেছনে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলিয়া ‘Seeking.com’ নামক সাইটে ‘অ্যালেসিয়া’ ছদ্মনামে প্রোফাইল চালাতেন। রবার্টের দাবি, জুলিয়া তাকে জানিয়েছিলেন তার কলেজের পড়ার খরচও মিটিয়েছিলেন আগের ‘সুগার ড্যাডিরা’। গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন বিপুল অর্থের নেশা এবং আর্থিক চাপ তাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা বা অপরাধীদের ব্ল্যাকমেইলের সুযোগ করে দিতে পারে, যা আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

অভিযোগকারী আরও জানান, জুলিয়া নিজেকে ‘বস প্রিন্সেস’ বলে পরিচয় দিতেন এবং সম্পর্কের সময় তারা মারিজুয়ানা সেবন করতেন। জুলিয়ার দাবি ছিল, তিনি সরকারি ‘ড্রাগ টেস্ট’-এর ঊর্ধ্বে। উল্লেখ্য, সিআইএ বা এফবিআই-এর মতো সংস্থায় মাদক সেবনের তথ্য প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক চাকরিচ্যুতির নিয়ম রয়েছে।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জুলিয়া ভারভারো। তার দাবি, ওই সাইটে তার কোনো প্রোফাইল নেই এবং একজন ‘প্রতিশোধপরায়ণ সাবেক প্রেমিক’ তাকে বিপদে ফেলতে এসব বানোয়াট অভিযোগ সাজিয়েছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন খোদ ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক তুঙ্গে। এখন দেখার বিষয়, অভ্যন্তরীণ তদন্তে জুলিয়ার এই ‘বিলাসী জীবনযাত্রা’র আসল রহস্য কী বেরিয়ে আসে।