মধ্যপ্রাচ্য ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক শক্তি আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে ওই অঞ্চলে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৬টি যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করছে। এছাড়াও বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগোচ্ছে। রণতরীটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেছে। সেন্ট্রাল কমান্ড এই তথ্য জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এই অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দিকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত মহাসাগরসহ বিভিন্ন এলাকায় এ পর্যন্ত অন্তত তিনটি জাহাজে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন সেনারা। এর মধ্যে দুটি অভিযান চালানো হয় পারস্য উপসাগর থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে।
সবশেষ গত বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা একটি তেলবাহী জাহাজে অভিযান চালায় মার্কিন বাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, জাহাজটি ইরান থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা ১৯টি জাহাজ হলো—
বিমানবাহী রণতরি: ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।
ডেস্ট্রয়ার: ইউএসএস বেইনব্রিজ, ইউএসএস টমাস হাডনার, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়র, ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক, ইউএসএস মাইকেল মার্ফি, ইউএসএস মিটশার, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স, ইউএসএস মিলিয়াস, ইউএসএস চার্চিল, ইউএসএস ট্রাক্সটন ও ইউএসএস মাহান।
কমব্যাট শিপ: ইউএসএস ক্যানবেরা ও ইউএসএস তুলসা।
অ্যাম্ফিবিয়াস গ্রুপ: ইউএসএস ত্রিপোলি, ইউএসএস নিউ অরলিন্স ও ইউএসএস রাশমোর।
এ ছাড়া ভারত মহাসাগরে আলাদাভাবে আরও সাতটি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে। যার মধ্যে ইউএসএস জন ফিন, ইউএসএস পিঙ্কনি, ইউএসএস হিগিন্স, ইউএসএস মাস্টিন, ইউএসএস ম্যাকফল, ইউএসএস জন এল. ক্যানলি এবং ইউএসএস সান্তা বারবারা।
মধ্যপ্রাচ্যের দিকে আসা সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রণতরীর একটি ছবি শেয়ার করেছে। এতে দেখা যায়, নিমিটজ শ্রেণির এই সুপারক্যারিয়ারটি ভারত মহাসাগরে চলাচল করছে।

