সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাকিস্তানিদের ‘টার্গেট করে বহিষ্কার’ করার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ ধরনের দাবিকে ‘অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ এবং ‘কুৎসা ছড়ানোর অপচেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। খবর দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়েছিল, প্রায় ১,২০০ পাকিস্তানিকে আমিরাত থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাদ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানি শ্রমিকদের ব্যাপক হারে বহিষ্কার শুরু করেছে। প্রতিবেদনে ২০ জন পাকিস্তানি শিয়ার সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করা হয়, যাদের মধ্যে আটজন আমিরাতভিত্তিক ব্যবসায়ী ছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তাদের পাকিস্তানি কর্মীদের বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উপসাগরীয় দেশটিতে ইরানের হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়ায় আমিরাত অসন্তুষ্ট ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিল।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখে তারা এসব খবরকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে পেয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কোনো দেশ থেকেই নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বহিষ্কার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে না। ‘
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যেসব ক্ষেত্রে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও বিধি অনুযায়ী নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। এর মধ্যে আইন লঙ্ঘন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থান করা বা অবৈধ কাগজপত্র ব্যবহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, যেসব পাকিস্তানি নাগরিক ভিসা ও কর্মসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করছেন, তারা আগের মতোই সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বন্ধুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশে কর্মভিসা পাচ্ছেন এবং সেখানে ভ্রমণ করতে পারছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এ নিয়ে ছড়ানো ‘ভুয়া খবর’ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো ‘অসৎ উদ্দেশ্যে তৈরি’ এবং বিশেষ স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা।
এছাড়া বিদেশে অবস্থানরত কোনো পাকিস্তানি নাগরিকের বিষয়ে সমস্যা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পৃথকভাবে সমাধান করা হয় বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

