যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরান বলেছে, তারা কোনো ধরনের ‘সাহসী বা উসকানিমূলক’ পদক্ষেপ নিলে এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করলে দৃঢ়ভাবে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছে তেহরান । খবর আল আরাবিয়ার
শনিবার (১ আগস্ট) তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এ হুঁশিয়ারি দেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, ইরান থেকে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন তারা ধ্বংস করেছে, যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে ফোনালাপে আরাগচি বলেন, ইরান যেকোনো ‘আগ্রাসনের’ জবাব দেবে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড’ এবং এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা করেন।
যদিও এরইমধ্যে ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে নতুন হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে। তবে শর্ত হলো—চলমান কয়েক মাসের সংঘাত বন্ধে দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। তবে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাকে নতুন হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ কল্যাণ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের স্বার্থে, দ্রুত একটি চুক্তি করা সম্ভব হলে আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি।
এর আগে শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন মার্কিন আলোচকরা—যার মধ্যে তার জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রয়েছেন—এখনো ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন।
তবে ট্রাম্প ইরানের ওপর আস্থার ঘাটতির কথাও জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ‘তারা বারবার তাদের কথা রাখে না।’ একই ধরনের অভিযোগ তেহরানও দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে করে আসছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজন হলে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ‘আঘাত হানবেন’।

