রবিবার, ২৩ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে প্রিন্স হ্যারি ও ৬ তারকা

শনিবার, আগস্ট ২২, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রকাশনা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড নিউজপেপারস লিমিটেড (এএনএল)-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় হেরে যাওয়ার পর বিশাল অঙ্কের আইনি খরচের মুখে পড়েছেন প্রিন্স হ্যারি ও অন্য ছয়জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। খবর বিবিসির।

আদালত তাদের ওপর এক ব্যতিক্রমী নির্দেশ জারি করে প্রকাশনা সংস্থাটিকে আগামী সপ্তাহের শুক্রবারের (২৮ আগস্ট) মধ্যে প্রাথমিকভাবে ৯৫.৪ লাখ পাউন্ড (প্রায় ১৬০ কোটি টাকা) পরিশোধের আদেশ দিয়েছে।

প্রিন্স হ্যারির পাশাপাশি এই মামলায় হেরে যাওয়া অন্য ছয়জন হলেন—কিংবদন্তি গায়ক স্যার এলটন জন ও তার স্বামী ডেভিড ফার্নিশ, লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক ডেপুটি লিডার স্যার সাইমন হিউজ, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনকর্মী ব্যারনস লরেন্স এবং খ্যাতনামা অভিনেত্রী সেডি ফ্রস্ট ও লিজ হার্লি।

হাইকোর্টের বিচারপতি জাস্টিস নিকলিন মামলায় বাদীদের আইনি লড়াইয়ের ধরনকে ‘অত্যন্ত অযৌক্তিক’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রকাশনা সংস্থার পক্ষে এই রায় দেন।

প্রাথমিকভাবে মামলা হারের ঝুঁকি এড়াতে ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি সহ বাকি বাদীদের ১৬.২ মিলিয়ন পাউন্ডের বিমা কাভারেজ করা ছিল। তবে আদালতের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ‘ডেইলি মেইল’ কর্তৃপক্ষ নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনে খরচ হওয়া মোট ৩৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫৭৫ কোটি টাকা) পর্যন্ত দাবি করতে পারবে। ফলে বিমার অঙ্কের বাইরে হ্যারিসহ বাকিদের অতিরিক্ত প্রায় ১৮ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৩০০ কোটি টাকা) পর্যন্ত পরিশোধ করতে হতে পারে।

বিচারপতি নিকলিন রায়ে উল্লেখ করেন, বাদী পক্ষ কোনো সঠিক তথ্যপ্রমাণ ছাড়া সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও নির্বাহীদের বিরুদ্ধে গুরুত্বর অপরাধের অভিযোগ এনে তা প্রত্যাহার না করে ঝুলিয়ে রেখেছিল, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালত সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর প্রকাশনা সংস্থার বিশাল খরচের পরিমাণকে কিছুটা ‘অতিরিক্ত’ বললেও মামলা পরিচালনায় আবেদনকারীদের আচরণের কারণে কোনো খরচের সীমা বেঁধে দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

মামলা খারিজ হওয়ার পর এএনএল এই রায়কে তাদের পত্রিকার সম্মান ও সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি রক্ষায় এক ঐতিহাসিক জয় হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে, মামলার অন্যতম বাদী ব্যারনস লরেন্স এবং প্রিন্স হ্যারি এক যৌথ বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই রায়কে একটি ‘সম্পূর্ণ ও স্পষ্ট ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা’ বলে উল্লেখ করেছেন।

উল্লেখ্য, প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল তাদের সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে যুক্তরাজ্যে স্কুলে ভর্তি করিয়ে সেখানে ফেরার পরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই আদালতের এই বড় আইনি ধাক্কাটি এলো। আগামী ২ অক্টোবরের মধ্যে এই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদনকারীদের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।