ইউরেশীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জোট সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এই বৈঠক শুরু হয়।
এর আগে সম্মেলনের আয়োজক কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ ইয়ন্তিমাক অর্দো কমপ্লেক্সে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের স্বাগত জানান। পরে নেতারা ঐতিহ্যবাহী দলীয় ছবিতে অংশ নেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জাপারভ বলেন, এ বছর এসসিও প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য—‘টেকসই শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে’।
তিনি বলেন, শুরুতে সীমান্ত নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া এই সংগঠন এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী একটি বৈশ্বিক জোটে পরিণত হয়েছে।
জাপারভের ভাষ্য অনুযায়ী, এসসিওর সদস্য দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের বসবাস। পাশাপাশি বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই দেশগুলোর।
কিরগিজস্তানের এসসিও সভাপতিত্বের মূল দর্শন হিসেবে জাপারভ উল্লেখ করেন, ‘ঐক্যই সমৃদ্ধির ভিত্তি’—যা তার মতে ‘সাংহাই স্পিরিট’-এর মূল ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সদস্য দেশগুলো সমন্বিতভাবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে এসসিওর উন্নয়নে নতুন অধ্যায় শুরু করবে বলে আশা প্রকাশ করে জাপারভ আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানদের কাউন্সিলের বৈঠক উদ্বোধন করেন।
এরপর নেতারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। সম্মেলনের শেষে সংগঠনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘বিশকেক ঘোষণা’ সই করার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন—
- চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
- রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
- পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ
- ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান
- বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো
- কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ
- তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান
- উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়য়েভ
রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠক শেষে ‘এসসিও প্লাস’ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
তুরস্ক এসসিওর পূর্ণ সদস্য নয়। তবে ২০১২ সাল থেকে দেশটি সংগঠনটির ‘ডায়ালগ পার্টনার’ হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

