হামজা চৌধুরী, শমিত সোম ও ফাহামেদুল ইসলাম আসায় জাগরণ তৈরি হয়েছে দেশের ফুটবলে। সেই উম্মাদনা কাজে লাগিয়ে এবার দেশের ফুটসালকেও এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। সেই লক্ষ্যে এশিয়ার ১৩ বারের চ্যাম্পিয়ন ইরানের কোচ সাঈদ খোদারাহমির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে লাল-সবুজের ফুটসাল।
রোববার বাফুফেতে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানে ফুটসালের জনপ্রিয়তা বোঝাতে কোচ সাঈদ বলেন, ‘আমার শহরেই এক হাজার ফুটসাল স্টেডিয়াম। ইরানে প্রিমিয়ার লিগ থেকে শুরু করে অনূর্ধ্ব-১২ পর্যন্ত ফুটসাল প্রতিযোগিতা হয়।’
বাংলাদেশে ফুটসালের তেমন কোনো কাঠামো নেই। তাই বাংলাদেশের ফুটসালের নতুন এই যাত্রাকে ‘জন্ম’ হিসাবে আখ্যায়িত করে এই কোচ বলেন, ‘বাংলাদেশ ফুটসালে শিশু। ইরান সেই হিসাবে বিশ্ববিদ্যালয়। আমার চেষ্টা থাকবে বাংলাদেশের ফুটসালে উন্নতি করা।’
ফুটসাল নিয়ে বিস্তর জানাশোনা সাঈদের। এক যুগের বেশি সময় তিনি এএফসি’র ফুটসাল ইন্সট্রাক্টর হিসাবে কাজ করছেন। মিয়ানমার জাতীয় নারী ও পুরুষ ফুটসাল দলের কোচ ছিলেন পাঁচ বছর। বাংলাদেশের আঙ্গিকে বেশ হাইপ্রোফাইল কোচ তিনি। বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করি। এজন্যই মূলত এসেছি। মিয়ানমারে যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম একই অবস্থায় ছিল। পাঁচ বছর পর তাদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। আমি চাই বাংলাদেশের মানুষও একদিন সাঈদকে মনে রাখবে।’
বাফুফের ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান সাঈদকে বেছে নেওয়ার কারণ সম্পর্কে বলেন, ‘ফুটসালে আগে মিয়ানমারের র্যাংকিং ছিল ১০৩। তার কোচিংয়ে ৮০ তে এসেছিল। ফুটসালে ১৩৯ পর্যন্ত র্যাংকিং রয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুতই র্যাংকিং সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারব।’
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল কোচ নিয়োগের মাধ্যমে ফুটসালকে এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করলেন, ‘আমরা সামনে ফুটসাল লিগ আয়োজন করব। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ফুটসাল লিগও হবে। বিশ্ব যেভাবে চলছে আমাদেরও সেভাবে চলতে হবে।’
বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবল দল কখনো এএফসি আসরে খেলেনি। সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় এশিয়ান কাপ ফুটসাল বাছাইয়ে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্ট সামনে রেখেই মূলত তিন মাসের জন্য ইরানি কোচ এনেছে বাফুফে।

