‘ভালোবাসার মানুষের কাছে অবহেলিত নারীর ক্রোধের মতো ভয়ংকর আর কিছু নেই’—এ কথার বাস্তব রূপ দেখা গেল ভারতে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দেশটির বেঙ্গালুরু রাজ্যে এক তরুণী তার প্রেমিককে বাড়িতে ডেকে আনে। নতুন পদ্ধতিতে প্রেম নিবেদনের কথা বলে ওই তরুণী প্রেমিকের চোখে পট্টি দিয়ে এবং তাকে চেয়ারে বেঁধে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। শুধু তাই নয়, আগুনে পুড়ে ওই যুবকের মৃত্যুর ঘটনাটি ক্যামেরায় ধারণ করেন প্রেমিকা।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী যুবক ওই তরুণীকে ‘অবহেলা’ করত, এমন ধারণা থেকেই ওই তরুণী ক্ষুব্ধ হয়। ভুক্তভোগী যুবক কিরণ এবং অভিযুক্ত তরুণী প্রেরণা টেলিকমের দোকানে চাকরি করত। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি প্রেরণা অনুভব করছিল, কিরণ তাকে যথেষ্ট মনোযোগ দেয় না। কিরণ তাকে বিয়ে করবে না বলেও সে আশঙ্কা করছিল।
প্রেরণা দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর অঞ্জনাপুরায় একটি বাড়িতে মা ও ভাইয়ের সঙ্গে থাকে। তবে মঙ্গলবার প্রেরণা বাড়িতে একা ছিল। এই সুযোগে সে কিরণকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানায়। এরপর কিরণ বাড়িতে এলে তারা কিছুক্ষণ কথা বলে এবং নতুন পদ্ধতিতে প্রেম নিবেদনের কথা জানায়। একপর্যায়ে প্রেরণা কিরণের চোখে পট্টি বেঁধে তাকে একটি চেয়ারে বসিয়ে বেঁধে ফেলে। এই কাজ করার সময় প্রেরণা ভিডিও ধারণ করছিল বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কিরণকে তাকে বাঁধার সময় আপত্তি জানায়। এ সময়য় প্রেরণা বলে, সে তাকে এমনভাবে প্রস্তাব দিতে চায়, যা বিদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় কিরণ যখন নতুন পদ্ধতিতে প্রেম প্রস্তাব পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিল, সেই সময়ে প্রেরণা তার গায়ে দাহ্য তরল ঢালে এবং এরপর আগুন ধরিয়ে দেয়।
ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ডিএল নাগেশ বলেন, আমরা ওই তরুণীকে হেফাজতে নিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদে পর জানতে পেরেছি, তিনিই ওই যুবককে আগুন ধরিয়ে হত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই তরুণী মনে করতেন, তার প্রেমিক তাকে অবহেলা করছে।

