ভারতের আসামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমে বর্তমানে ৩ লাখ ৩২ হাজার ৬৩৯ জনে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এএসডিএমএর বুলেটিনে বলা হয়, সর্বশেষ সাতটি মৃত্যুর ঘটনাই শিবসাগর জেলার নজিরা রাজস্ব চক্র এলাকায় ঘটেছে।
বর্তমানে শিবসাগর, চরাইদেও, গোলাঘাট, যোরহাট, নগাঁও, সোনিতপুর ও কামরূপ মহানগর—এই সাতটি জেলা এখনও বন্যার পানিতে প্লাবিত। এসব জেলার ৬২২টি গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত চরাইদেও জেলা, যেখানে ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৫৬ জন মানুষ বন্যার কবলে রয়েছেন। এছাড়া শিবসাগরে ৯৭ হাজার ৭৪ জন এবং যোরহাটে ৫৭ হাজার ৩৭১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এর আগের দিন সোমবার ছয়টি জেলা বন্যাকবলিত ছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার। যদিও বর্তমানে দুর্গত মানুষের সংখ্যা কিছুটা কমেছে, তবুও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক।
বন্যাদুর্গত মানুষের সহায়তায় রাজ্যজুড়ে ৮১টি ত্রাণশিবির চালু রয়েছে। এসব শিবিরে ৩২ হাজার ৪৭৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি ৩৪টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র থেকেও ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
এদিকে সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ), ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিস এবং স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এএসডিএমএ জানিয়েছে, গোলাঘাট জেলার নুমালীগড়ে ধানসিরি (দক্ষিণ) নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, ফলে নতুন করে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যার কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৫ হাজার ৩৪২ হেক্টর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

