শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

শিরোনাম

‘ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ফাটল’—ট্রাম্পের বক্তব্য উড়িয়ে দিল তেহরান

শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মধ্যে ফাটল ধরেছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় জানিয়েছেন, পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেওয়া ‘কট্টরপন্থি’ বা ‘নরমপন্থি’ তকমা অর্থহীন; বরং দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ।

ইরানের বিচারবিভাগীয় প্রধান গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ট্রাম্পের বোঝা উচিত যে ‘কট্টরপন্থী’ বা ‘মডারেট’ শব্দগুলো পশ্চিমাদের তৈরি করা ভিত্তিহীন তকমা। তিনি স্পষ্ট জানান, ইরানের প্রতিটি গোষ্ঠী ও দল সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনার প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত এবং ঐক্যবদ্ধ।

একই সুরে কথা বলেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তারা উভয়েই তাদের এক্স হ্যান্ডেলে হুবহু একই বার্তা পোস্ট করে বলেছেন, ইরানে কোনো কট্টরপন্থী বা নরমপন্থী নেই। আমরা সবাই ইরানি। জনগণ ও রাষ্ট্রের মধ্যে এই ইস্পাতের মতো কঠিন ঐক্য এবং সর্বোচ্চ নেতার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য নিয়ে আমরা আক্রমণকারীকে অনুতপ্ত হতে বাধ্য করব।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বার্তায় বলেন, যুদ্ধক্ষেত্র এবং কূটনীতি হলো একই যুদ্ধের দুটি সমন্বিত ফ্রন্ট। ট্রাম্পের মতে এই বিভক্তির কারণে চুক্তি হওয়া সম্ভব হচ্ছে না, কিন্তু আরাগচি দাবি করেন ইরানিরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি একতাবদ্ধ।

সরকারিভাবে ঐক্যের দাবি জানানো হলেও কিছু সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের মধ্যস্থতাকারী দল এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে রণকৌশল নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। অতীতেও তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ ও জেনারেল কাসেম সোলেইমানির মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে এমন দ্বন্দ্ব দেখা গিয়েছিল। তবে বর্তমান সংঘাতের আবহে তেহরান বিশ্বকে এটিই দেখাতে চায় যে—বাইরের চাপ তাদের টলাতে পারবে না।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলি ও মার্কিন হামলায় সাবেক নেতার মৃত্যুর পর নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হন মোজতবা খামেনি। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। সূত্রগুলো বলছে, হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তার মুখে ক্ষত রয়েছে। ইসরাইলি গোয়েন্দাদের নজরদারি এড়াতে আইআরজিসি কমান্ডারেরা তার সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ এড়িয়ে চলছেন, যদিও তিনি বর্তমানে পূর্ণ সচেতন রয়েছেন।