গাজা ও সিরিয়া ইস্যুতে তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনা চলার মধ্যেই দেশটিতে নতুন কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগ দিয়েছে ইসরাইল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে আঙ্কারায় ইসরাইলি দূতাবাস কার্যত বন্ধ থাকলেও নতুন প্রতিনিধি হিসেবে জোয়েল লায়নকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মিডল ইস্ট আইকে ইসরাইলের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোয়েল লায়নকে ‘চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এর আগে তিনি মলদোভায় ইসরাইলের প্রথম আবাসিক রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত আর্মেনিয়ায় অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।
চলতি বছরের শুরুতে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ইরিত লিলিয়ানের অবসরের পর তুরস্কে রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য ছিল। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার আঙ্কারায় গিয়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেন জোয়েল লায়ন।
ইসরাইলি ওই কর্মকর্তা জানান, আঙ্কারায় দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত থাকার বিষয়টি রাজনৈতিক নয়, বরং নিরাপত্তাজনিত। তার দাবি, দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করা হয়নি এবং স্থানীয় কর্মীরা তুরস্কে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে দূতাবাস বন্ধ রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষই একমত।
২০২৩ সালের শেষ দিকে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল থেকে ইসরাইলি কর্মীদের প্রত্যাহারের পর জোয়েল লায়নের সফরকে তুরস্কে কোনো জ্যেষ্ঠ ইসরাইলি কর্মকর্তার প্রথম সফর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গাজা যুদ্ধ ঘিরে বেড়েছে উত্তেজনা
২০২২ ও ২০২৩ সালে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা উষ্ণতা দেখা গেলেও ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর থেকে তুরস্ক ও ইসরাইলের সম্পর্ক দ্রুত অবনতি হতে থাকে।
ইসরাইলের গাজায় সামরিক অভিযান শুরু হলে আঙ্কারা প্রথমে এর নিন্দা জানায়। পরে গাজায় ইসরাইলের অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তুরস্ক। ২০২৪ সালে ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে দেশটি।
সিরিয়া নিয়েও মুখোমুখি তুরস্ক-ইসরাইল
চলতি বছরের শুরুতে সিরিয়া ইস্যুতেও দুই দেশের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
গত মাসে উত্তর সিরিয়ার আবু আল-দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় ইসরাইল। ঘাঁটিটি তুরস্কের সীমান্ত থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে। ইসরাইলের দাবি, তুরস্ক ওই ঘাঁটিতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইসরাইলের ভাষ্য, এ ধরনের ব্যবস্থা তাদের বিমান হামলা পরিচালনার স্বাধীনতা সীমিত করতে পারে।
তুরস্ক আশা করছে, আগামী অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পরাজিত হলে দুই দেশের মধ্যে আবারও সংলাপের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ইসরাইলি ওই কর্মকর্তা মনে করেন, নেতানিয়াহুর সরকার অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করে ক্ষমতায় টিকে যেতে পারে।
তার মতে, ইসরাইলে এমন রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে দেশটির নীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে তুরস্কের গণমাধ্যমে ইসরাইলবিরোধী ‘উসকানি’কে উল্লেখ করেছেন ওই ইসরাইলি কর্মকর্তা।

