ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবায় সামরিক হস্তক্ষেপের ইচ্ছা নেই বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ব্রাজিলিয়ান দূতাবাসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। খবর আনাদোলুর।
লুলা জানান,ট্রাম্পের কথাবার্তায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি এবং আশা করি অনুবাদ ঠিক ছিল। তিনি বলেছেন, কিউবায় হামলা বা আগ্রাসনের কথা তিনি ভাবছেন না। আমার মনে হয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিউবা সংলাপ চায়। তারা এমন একটি সমাধান চায়, যাতে ১৯৫৯ সাল থেকে চলা অবরোধের অবসান হয়। এই অবরোধ কিউবাকে পুরোপুরি স্বাধীন দেশ হতে বাধাগ্রস্ত করেছে। এটি মানব ইতিহাসের দীর্ঘতম অবরোধগুলোর একটি।’
তবে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত অবস্থান তার সাম্প্রতিক প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত ১৬ মার্চ হোয়াইট হাউসে তিনি বলেছিলেন, ‘কিউবাকে দখলে নেওয়ার সম্মান আমার হবে।’
লুলা যুক্তরাষ্ট্র ও তার দীর্ঘদিনের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে ব্রাজিলের মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দেন। তিনি বলেন, ‘কিউবা বা ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয় নিয়ে যদি কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনায় ব্রাজিলকে দরকার হয়, তাহলে আমরা কথা বলতে প্রস্তুত। তবে আমি এখানে মূলত ব্রাজিলের বিষয় নিয়েই আলোচনা করতে এসেছি।’
একই সঙ্গে লুলা অতীতের একটি কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন। তিনি জানান, ২০১০ সালে ব্রাজিলের মধ্যস্থতায় হওয়া ইরানের পারমাণবিক চুক্তির কপি তিনি একবার ট্রাম্পকে দিয়েছিলেন এবং এবারও সেটি আবার তুলে দিয়েছেন।
লুলা বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, আমরা যখন ওই চুক্তি সম্পন্ন করলাম, তখন কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আমি জানি না।’
তার ধারণা, চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো ‘তৃতীয় বিশ্বের’ হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি।
তিনি বলেন, ‘সম্ভবত কারণ, এই চুক্তি করেছিল এমন দেশগুলো বৈশ্বিক ক্ষমতাধর এলিট গোষ্ঠীর অংশ ছিল না।’
বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন লুলা। তিনি বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করেন।
লুলা বলেন, ‘আমি বিশ্বের সব যুদ্ধেরই সমালোচক। যেমন ইউক্রেন যুদ্ধের সমালোচনা করেছি, তেমনি গাজা, লেবানন এবং ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যা করেছে, তারও বিরোধিতা করছি। আমি পুরোপুরি এর বিরুদ্ধে।’

