শুক্রবার, ০৭ আগষ্ট ২০২৬

শিরোনাম

থাইল্যান্ডে স্কুলছাত্রের গুলিতে শিক্ষক নিহত, আহত ১০

শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

থাইল্যান্ডের একটি মাধ্যমিক স্কুলে ছাত্রের গুলিতে এক শিক্ষকসহ অন্তত দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন। হামলায় অভিযুক্ত বন্দুকধারী শিক্ষার্থী নিজেও মারা গেছে বলে পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। খবর এনডিটিভির।

কিছু সূত্রে খবর মিলেছে পুলিশি গুলিতে সন্দেহভাজন ওই শিক্ষার্থী নিহত হয়, আবার অন্য কিছু সূত্রের মতে সে আত্মহত্যা করেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) দেশটির নোনথাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলার ঐতিহ্যবাহী ‘দেবসিরিন নোনথাবুরি স্কুলে’ এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে।

স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘থাই পিবিএস’ জানিয়েছে, প্রাথমিক তথ্যে ১০ থেকে ১৫ জন আহত হওয়ার খবর মিলেছিল।

নোনথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান দেচরাপি কংকদি বিবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, হামলাকারী ছিল ওই স্কুলেরই নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। থাইল্যান্ডে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বয়স সাধারণত ১৪ বছরের কাছাকাছি হয়ে থাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জরুরি সেবাকর্মীদের শেয়ার করা ছবির বরাতে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে একজনকে শুইয়ে রাখা হয়েছে। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা তড়িঘড়ি করে স্কুল থেকে বেরিয়ে আসছে।

২০২৫ শিক্ষাবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, ওই স্কুলে প্রায় ৩,১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক রয়েছেন।

হামলার নেপথ্যের কারণ কিংবা কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনো প্রকাশ করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আগ্নেয়াস্ত্রের উপস্থিতি অন্যতম বেশি। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ১ কোটি বৈধ-অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ছড়িয়ে রয়েছে—অর্থাৎ প্রতি ৭ জন নাগরিকের বিপরীতে প্রায় ১টি করে বন্দুক রয়েছে।

এদিকে, আইন কঠোর করার বারবার আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও দেশটিতে এই ধরনের সহিংসতা কমছে না। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও দক্ষিণাঞ্চলীয় থাইল্যান্ডের একটি সরকারি স্কুলে ১৭ বছর বয়সি এক তরুণ পুলিশের পিস্তল চুরি করে দুই ঘণ্টাব্যাপী জিম্মি দশা তৈরি করে গুলিবর্ষণ করে। সেই ঘটনায় ১ জন নিহত ও ২ জন আহত হন।