রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

শিরোনাম

বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কেপ ভার্দের লড়াইয়ে মুগ্ধ কোচ বুবিস্তা

শনিবার, জুলাই ৪, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্বপ্নভঙ্গ হলেও কেপ ভার্দের ড্রেসিংরুমে ছিল না কোনো আত্মসমর্পণের গল্প। ছিল আক্ষেপ, চোখের জল আর নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করার তৃপ্তি। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ৩-২ ব্যবধানে বিদায় নেয়ার পর খেলোয়াড়দের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কেপ ভার্দের প্রধান কোচ বুবিস্তা। তার বিশ্বাস, আর্জেন্টিনাকে এভাবে চাপে ফেলার সামর্থ্য অন্য কোনো দলেরও ছিল না।

আজ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে। তবে ম্যাচের ২৯ মিনিটে লিওনেল মেসি গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে সমতায় ফিরে চমক দেখায় আফ্রিকার দেশটি। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ আবার আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিলেও ১০৩ মিনিটে দ্বিতীয়বার সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। শেষ পর্যন্ত ১১৩ মিনিটে মেসির কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আত্মঘাতী গোলে জয় নিশ্চিত করে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বুবিস্তা বলেন, ড্রেসিংরুমজুড়ে এখন কেবলই বিষাদের ছায়া। জয়ের এত কাছে গিয়েও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হওয়ায় খেলোয়াড়দের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক। তার ভাষায়, সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছে। তবে এই বেদনার মধ্যেও তিনি ভবিষ্যতের আশা দেখছেন। তার মতে, এমন অভিজ্ঞতা দলকে আরও পরিণত করবে এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাবে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে, এই দলের ভেতরে অসাধারণ লড়াই করার মানসিকতা ও প্রাণশক্তি রয়েছে।

নিজের খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে কেপ ভার্দের কোচ বলেন, মাঠে তার দল যে সাহস, আত্মবিশ্বাস ও মর্যাদার সঙ্গে খেলেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।

তিনি স্বীকার করেন, আর্জেন্টিনা কেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, সেটি তারা এই ম্যাচেও দেখিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, তার খেলোয়াড়েরাও জয়ের জন্য নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা লড়াই করেছে এবং প্রতিপক্ষকে কোনো সময়ই স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি।

বুবিস্তার মতে, আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দুইবার সমতায় ফিরে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়াই কেপ ভার্দের প্রকৃত সামর্থ্যের প্রতিফলন। তার দাবি, অন্য কোনো দল হয়তো আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারত না। এই ম্যাচে তার দল যে চরিত্র, মানসিক দৃঢ়তা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে, সেটিই কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়েরা পুরো ম্যাচে নিজেদের স্বাভাবিক খেলার ধরণ বজায় রেখেছে এবং শেষ পর্যন্ত বীরত্বের সঙ্গেই লড়াই করেছে।

এবারই প্রথম কোনো বৈশ্বিক ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের আগে দেশটির ফুটবল সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানত। কিন্তু গ্রুপ পর্বে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের মতো দলকে রুখে দিয়ে তারা আলোচনায় আসে। সেই ধারাবাহিকতাই শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও ধরে রাখে দলটি।

বুবিস্তা বলেন, বিশ্বকাপে তাদের লক্ষ্য শুধু ফুটবল খেলা ছিল না, বরং বিশ্বের সামনে কেপ ভার্দের পরিচয় তুলে ধরা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে তারা বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে বুক চিতিয়ে খেলতে চেয়েছেন। তার বিশ্বাস, এই যাত্রায় কেপ ভার্দে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের একটি শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

শেষে নিজের দলের সততা ও সংগ্রামী মানসিকতার কথা তুলে ধরে বুবিস্তা বলেন, তার খেলোয়াড়েরা কোনো ধরনের অন্যায় সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করেনি। বরং প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করেছে। ছোট্ট একটি দেশের প্রতিনিধিরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও বড় মঞ্চে সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব। তাই তার মতে, পুরো দেশেরই উচিত এই ফুটবলারদের অভিনন্দন জানানো।