ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার তিন দিন পর ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮৪ বছর বয়সি এক বৃদ্ধাকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
গত শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে দেশটির ফ্লোরেস দ্বীপে আঘাত হানা এই ভয়াবহ দুর্যোগে অন্তত ৭৩ জন নিহত, ৯০০ জনেরও বেশি আহত এবং প্রায় ৬০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে নিতুংলিয়া গ্রামের রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেলে সেখানেই পলিনা পোবি নামের ওই বৃদ্ধা বাঁশের তৈরি ধসে পড়া ঘরের নিচে আটকা পড়েন। তিনি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ায় নড়াচড়া বা কথা বলতে পারছিলেন না। ফলে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঘটনার চতুর্থ দিনে স্বজনরা অবশেষে তাকে খুঁজে পান।
কয়েক দিন ধরে খাবার ও পানি ছাড়া আটকে থাকার কারণে তিনি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন, তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো তার শরীরে কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল না। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে অলৌকিক উল্লেখ করে জানান, তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
দ্বীপজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ধ্বংসস্তূপের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো তৎপরতা চালাচ্ছেন কর্মীরা। ইতোমধ্যে দুর্গম এলাকায় দ্রুত খাদ্য, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দিতে সামরিক বিমান ও জাহাজ ব্যবহার করে প্রায় ৩৯৮ টন ত্রাণ সরবরাহ করা হয়েছে।
তবে শনিবারের পর থেকে এ পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি অনুকম্পন বা আফটারশক রেকর্ড করা হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বাস্তুচ্যুত এই মানুষগুলো কেবল শারীরিকভাবেই নয়, মানসিকভাবেও চরম বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ থাকা ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই এমন ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হতে হয় বাসিন্দাদের।

