যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের একের পর এক হামলার পরও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলোতে মজুত রাখা উপাদান ব্যবহার করে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করেছে ইরান। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে নিশ্চিত করেছেন যে, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজিরসহ একাধিক ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলছে। এর মাধ্যমে তেহরানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের যে দাবি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল করেছিল, তা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়ল।
ইরান বর্তমানে তরল ও কঠিন- উভয় জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্রই সংযোজন করছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এড়াতে তৈরি করা হচ্ছে নতুন ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রও। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, যুদ্ধের আগেই ইরানের প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভূগর্ভে সারিবদ্ধভাবে মজুত ছিল। এসব দিয়ে তারা আরও কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম। বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কাঁচামাল ও কঠিন জ্বালানির উপাদান সংগ্রহ করা কঠিন হলেও, সামরিক বিশ্লেষকদের মতে দেশটির অস্ত্রাগারে এখনো হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিদ্যমান।
এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং পেন্টাগন দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শিল্পভিত্তির ৯০ শতাংশই ধ্বংস করা হয়েছে।
তবে বিশ্লেষক তাল ইনবারের মতে, কেবল বোমা মেরে ইরানের মতো সুবিশাল ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা চিরতরে নির্মূল করা অসম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের এ তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, দেশটি প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত গতিতে পুনর্গঠন চালাতে পারে।
আরব ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, লড়াই আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ যত জোরদার হচ্ছে, ইরানের পক্ষ থেকে সংঘাতের তীব্রতা ও পরিসর আরও বাড়ানোর ঝুঁকিও তত বাড়ছে। গত কয়েক দিনে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে একাধিক হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলায় কোনো জাহাজ সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত না হলেও সেগুলো অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে।
বুধবার জর্ডানের এক বিমানঘাঁটিতে একযোগে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। ওই ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাসদস্যরা অবস্থান করছেন।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে ক্লাস্টার ওয়ারহেড যুক্ত ছিল। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে ও পরাস্ত করতে যুদ্ধের শুরুর দিকে ইসরায়েলে প্রায়ই এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হতো।

