ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
রোববার (২৪ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতিকে ব্যঙ্গ করেন গালিবাফ। এসময় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরানের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত মার্কিন করদাতা ও ব্যবসায়ীদের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে হিমায়িত মাংস আমদানির প্রসঙ্গ টেনে গালিবাফ লেখেন, মাংসের দাম কমাতে হিমায়িত মাংস আমদানি? ঠিক আছে, সেটা হয়তো কাজ করতে পারে।
এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, বন্ড, আবাসন ও মজুরির মতো অন্যান্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা কী? তাহলে কি বন্ডের জন্য ‘হিমায়িত ইয়িল্ড’, আবাসনের জন্য ‘হিমায়িত বাড়ির ক্রেতা’ এবং মজুরির জন্য ‘হিমায়িত বেতন’ আমদানি করা হবে?
এরপর ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, একটি স্থবির পররাষ্ট্রনীতি একটি স্থবির অর্থনীতি তৈরি করে। গালিবাফের ভাষায়, এখনও যে একমাত্র জিনিসটি চলমান, সেটি হলো ‘ইরানের বুমেরাং’, যা ঘুরে এসে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই আঘাত করবে।
গালিবাফের এই মন্তব্যের আগে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার মার্কিন প্রচেষ্টায় মিত্র দেশগুলোকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তেহরান অবশ্য ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন উদ্যোগকে ‘হতাশার প্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অস্থিরতা অব্যাহত থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

