বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

শিরোনাম

রাস্তা ব্যবসার জন্য নয়, মানুষের চলাচলের জন্য: ডা. শফিকুর রহমান

বুধবার, জুলাই ১, ২০২৬

প্রিন্ট করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশ শুধু কোনো নির্দিষ্ট সরকার বা বিরোধী দলের নয়, এ দেশ আপামর জনসাধারণের। রাজনৈতিক নেতাদের মূল দায়িত্ব হলো জনগণের জীবন, সম্পদ ও সম্মানের অধিকার রক্ষা করা।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের জনদুর্ভোগ নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জনসাধারণের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, দেশ শুধু সরকারের না, শুধু বিরোধী দলেরও না। দেশ আপামর জনগণের। আমরা আপনাদের চৌকিদার, পাহারাদার—এর বেশি কিছু নই। আপনাদের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই।

নগরীর যানজট ও জনদুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে সড়ক ও ফুটপাত দখলকে চিহ্নিত করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাস্তা ব্যবসার জন্য নয়, মানুষের চলাচলের জন্য। সড়কগুলো হকার ও অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ও শক্ত ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। এই উচ্ছেদ ও শৃঙ্খলা ফেরানোর কাজে জামায়াতে ইসলামী প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

দেশের চলমান বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ লোডশেডিংয়ের কারণে এখনো বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার যদি আন্তরিকভাবে কাজ করে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দল-মত নির্বিশেষে সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে দ্রুতই পরিস্থিতির ইতিবাচক উন্নতি হবে। একটি সমৃদ্ধ ও ভালো দেশ গড়তে সরকার ও বিরোধী দল সবার সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিজের রাজনৈতিক ব্যস্ততার কথা তুলে ধরে জামায়াত প্রধান বলেন, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সারা দেশের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নানা দায়িত্ব পালনের কারণে প্রতিদিন সব জায়গায় সশরীরে যাওয়া সম্ভব হয় না। তবে সুযোগ পেলেই তিনি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ছুটে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

সামাজিক অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের ওপর এককভাবে নির্ভর না করে পরিবার ও অভিভাবকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পুলিশ একা সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। কিশোর অপরাধ, মাদকসহ নানা সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় অভিভাবকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তান কার সঙ্গে মিশছে, কোথায় যাচ্ছে সেদিকে পরিবারের কড়া নজর রাখতে হবে।

একই সঙ্গে পুলিশের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পরিহার করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, অত্যন্ত সীমিত জনবল ও লজিস্টিকস নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব সমস্যা একা সামাল দিতে পারে না। তাই একটি অপরাধমুক্ত ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।